এবার পুরো ইরানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

এবার পুরো ইরানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, এবার পুরো ইরানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে এবার আরও কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দ্রুত কোনো শান্তি চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন-আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না এলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে।

এবিসির সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য আগের যে দুই থেকে তিন সপ্তাহের সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল, সেটি এখনও বহাল আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ নয়, এটি কয়েক দিন হওয়া উচিত।’ একই আলাপে তিনি দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সময় যত যাবে, তাদের পরিস্থিতি ততই খারাপ হবে। এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনেও ট্রাম্পের এই অবস্থানের প্রতিফলন পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে এখন নতুন করে সেতু বানাতে হবে, বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়তে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করতে হবে। তার ভাষায়, এর আগে আর কোনো দেশ এভাবে মার খায়নি। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, একই দিনে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্যও ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, তা না হলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হবে।

এর আগেও ট্রাম্প হরমুজ ইস্যুতে একাধিকবার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা পূর্বাঞ্চলীয় সময়!” পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “তারা যদি (ইরান) এগিয়ে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখতে চায়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে আর কিছু থাকবে না তাদের। পুরো ইরানে যত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে- সব ধ্বংস করা হবে।” রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই রুট ব্যবহার করে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে এই পথ ঘিরে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ায় জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, তেলের দামও অস্থির হয়ে উঠেছে। এপি জানিয়েছে, ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও ওয়াশিংটনের ওপর দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ দিচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ