ইরানে পারমাণবিক হামলার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’

ইরানে পারমাণবিক হামলার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’
ছবির ক্যাপশান, ইরানে পারমাণবিক হামলার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর ‘ডুমসডে প্লেন’ হিসেবে পরিচিত বোয়িং ই–৪বি নাইটওয়াচ-কে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল ) নেব্রাস্কার অফাট বিমানঘাঁটির আকাশে এই বিশেষ বিমানটি উড্ডয়ন করে কয়েকবার চক্কর দেয়। উল্লেখ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ডের প্রধান ঘাঁটি হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং (উড্ডয়ন নজরদারি) তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং অন্তত ছয়বার এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ঘাঁটিতে অবতরণ করে।

বোয়িং ই–৪বি নাইটওয়াচ মূলত একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার, যা পারমাণবিক যুদ্ধ বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এই বিমানে থেকেই প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা নিরাপদে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা চালিয়ে যেতে পারেন। এ কারণে একে অনেকেই “উড়ন্ত পেন্টাগন” বলে থাকেন।

বিমানটিতে রয়েছে আধুনিক ব্রিফিং কক্ষ, বৈঠক সুবিধা, কমান্ড সেন্টার এবং বিশ্রামাগার। এটি একসঙ্গে প্রায় ১১২ জন যাত্রী বহন করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করার সক্ষমতা রাখে। প্রায় ৭ হাজার মাইলের বেশি পাল্লার এই বিমানটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ, তড়িৎচৌম্বকীয় স্পন্দন (ইএমপি) এবং সাইবার হামলা সহ্য করার মতো করে বিশেষভাবে নির্মিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান প্রস্তাবে সাড়া না দিলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো-বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তিনি দাবি করেন, “এক রাতেই পুরো দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।”

বিশ্লেষকদের মতে, এমন কঠোর হুমকি ও সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ‘ডুমসডে প্লেন’-এর উড্ডয়ন কেবল নিয়মিত মহড়া নয়, বরং সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও হতে পারে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মোট চারটি বোয়িং ই–৪বি নাইটওয়াচ বিমান রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট


সম্পর্কিত নিউজ