ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি, চার দশকের সংঘাতের অবসান

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি, চার দশকের সংঘাতের অবসান
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Muhammad Qutayba

ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। চুক্তি শেষে তারা করমর্দনের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘোষণা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তকে “ঐতিহাসিক” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি দীর্ঘ সময় নিয়েছে, কিন্তু আমরা অবশেষে সফল হয়েছি।” তিনি জানান, চুক্তির আওতায় আজারবাইজানকে তার নাখিচেভান বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটির সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য একটি নতুন ট্রানজিট করিডোর নির্মাণ করা হবে। “Trump Route for International Peace and Prosperity (TRIPP)” নামে এই করিডোরে রেলপথ, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং ফাইবার-অপটিক লাইন স্থাপন করা হবে। করিডোর উন্নয়নের পূর্ণ অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

দুই নেতা চুক্তিকে “শান্তি ও সমৃদ্ধির রোডম্যাপ” হিসেবে অভিহিত করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এটি শুধু আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না, বরং সমগ্র দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এই দুই রাষ্ট্র বহু বছর ধরে বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বিরোধে লিপ্ত ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শেষ থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা অন্তত দুবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে ছয় সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষে শত শত মানুষ প্রাণ হারায়। সেই যুদ্ধের পরও সীমান্তে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। নতুন এই চুক্তি সেই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি বাস্তবায়ন হলে শুধু ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই বদলাবে না, বরং আঞ্চলিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ