শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া'র ধ্বংসযজ্ঞে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ ১৩০

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া'র ধ্বংসযজ্ঞে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ ১৩০
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Muhammad Qutayba

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’র প্রভাবে অব্যাহত প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৩০ জন। শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) এ তথ্য জানিয়েছে। সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভেঙে পড়া ঘরবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ডিএমসির মহাপরিচালক সাম্পাথ কোটুওয়েগোদা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কলম্বো থেকে প্রকাশিত এএফপি’র তথ্যমতে, বর্ষণে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে প্রতিবেশী ভারতের দিকে সরে যাচ্ছে, তবে এর আগেই এটি শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রভাবের পর বুধবার ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি দ্বীপে আঘাত হানলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় এবং নিম্নাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।

শনিবার কেলানি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিচু এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শত শত মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন। রাজধানীসহ অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে এলেও উত্তরাঞ্চলে এখনো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী ভারত। শনিবার ভোরে ভারতের পক্ষ থেকে একটি বিমান ভর্তি ত্রাণসামগ্রী শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় নয়াদিল্লি অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে।

ডিএমসি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এবারের বন্যা পরিস্থিতি ২০১৬ সালের ভয়াবহ বন্যার চেয়েও খারাপ হতে পারে। সে বছর ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আগের বছরের জুনের ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী আবহাওয়া–সম্পর্কিত দুর্যোগ।


সম্পর্কিত নিউজ