ভারতের কারাগারে খুনির আসামীদের প্রেম, বিয়ের জন্য প্যারোলে ছুটি

ভারতের কারাগারে খুনির আসামীদের প্রেম, বিয়ের জন্য প্যারোলে ছুটি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ভারতের রাজস্থানের আলওয়ারে কারাগারের ভেতরে দুই আসামীর মধ্যে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নিতে যাচ্ছে। দুজনেই খুন করার অপরাধে কারাবন্দী ছিলো। বিয়ের জন্য প্যারলে ১৫ দিনের জামিন পেয়েছে এই প্রেমিকযুগল।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কারাগারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কনে প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং বর হনুমান প্রসাদ। বিয়ে নিয়ে রাজস্থানজুড়ে চলছে তীব্র চাঞ্চল্য।

২০১৭ সালের অক্টোবরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বর হনুমান প্রসাদ প্রেমিকার প্ররোচনায় এক ভয়ংকর হত্যা করে বসে। প্রেমিকার স্বামী বনওয়ারী লাল নামের ব্যক্তিকে হত্যা করে। তখন ঘুমন্ত চার শিশু জেগে গেলে তাদেরও নির্মমভাবে হত্যা করে সে।
এক রাতেই পরিবারের পাঁচজনকে খুনের এই ঘটনা এখনো আলওয়ার জেলায় অন্যতম নৃশংস অপরাধ হিসেবে মানুষের মুখে শোনা যায়।

 

এদিকে কনে প্রিয়া শেঠ পেশাগত জীবনে একজন মডেল ছিলেন। ২০১৮ সালে টিন্ডার ডেটিং অ্যাপে পরিচিত হওয়া দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। একসময় তাকে প্রিয়া বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য প্রিয়ার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরার দেনা মেটানো। দুষ্যন্তের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ রুপি দাবি করা হলেও ৩ লাখ রুপি পাওয়ার পর পুলিশের সন্দেহের আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে।

 

হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে দুষ্যন্তের মুখে একাধিক ছুরিকাঘাত করে মরদেহ সুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। সেই বছরে মে’র ৩ তারিখে দুশ্যন্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং প্রিয়া, দীক্ষান্ত কামরা ও সহযোগী লক্ষ্য ওয়ালিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে প্রিয়া শেঠের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খুনের কেইসে বর-কনে দুজনেই সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছিলো। ছয় মাস আগে দুজনের প্রথম দেখা হয়। তারপর বন্ধুত্ব ও প্রেম।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও তারা একে অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিয়ের অনুমতির জন্য আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় সীমিত সময়ের প্যারোল মঞ্জুর করেন।

বিয়ের জন্য ১৫ দিনের মুক্তি পাচ্ছে এই জেল-জুটি।


সম্পর্কিত নিউজ