কে এই মোহাম্মদ দীপক কুমার ? ভারতে প্রশংসায় ভাসছে মুসলমানের পাশে দাঁড়িয়ে

কে এই মোহাম্মদ দীপক কুমার ? ভারতে প্রশংসায় ভাসছে মুসলমানের পাশে দাঁড়িয়ে
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আমরা যারা মুসলিম সবাই নামের আগে মোহাম্মদ ব্যবহার করে থাকি। যা আমাদের ধর্মের গুরত্বপুর্ন অংশ। কিন্তু কোন হিন্দু যুবক যদি নামের আগে মোহাম্মাদ সংযুক্ত করে তাহলে তো অবাক হওয়ারই কথা।এবার ভারতে ভাইরাল হয়েছে এমনই এক ঘটনা। নাম তাঁর দীপক কুমার কিন্তু এক মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাড়াতে গিয়ে নামের আগে মোহাম্মাদ ব্যবহার করে ভারত জুড়ে আলোচনায়।

এরকম নাম শুনে অবাক হয়েছিলেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সদস্যরাও। কিন্তু নিজের ওই নামই বলছিলেন উত্তরাখন্ডের কোটদোয়ার নামে ছোট্ট এক শহরের ওই বাসিন্দা।ঘটনার শুরু ভারতের উত্তরাখন্ডের এক মুসলিম বৃদ্ধের কাপড়ের দোকানের নাম নিয়ে। তাঁর দোকানের নাম 'বাবা স্কুল ড্রেস অ্যান্ড ম্যাচিং সেন্টার'আর এতেই ক্ষিপ্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।তাদের দাবী বাবা নামটি তাদের দেবতার নাম।

এই নামে দোকান রাখা যাবে না। ঠিক তখনই দীপক কুমার নামক মুসলিম দোকানির পক্ষে প্রতিবাদ করেন তারা তাঁর নাম জানতে চাইলে দীপক বলেন আমার নাম মোহাম্মদ দীপক কুমার। একজন মুসলমান কাপড় ব্যবসায়ীয়ের সমর্থনে এগিয়ে এসে বজরং দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ঘটনার প্রশংসাও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকে আবার সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, "আমার নামও মুহাম্মদ দীপক"।

মুহাম্মদ দীপক আসলে কে?
সামাজিক মাধ্যমে 'মুহাম্মদ দীপক' নামে পরিচিত হয়ে ওঠা ওই যুবকের আসল নাম দীপক কুমার কাশ্যপ। তিনি উত্তরাখণ্ডের কোটদোয়ারে থাকেন এবং পেশায় একজন জিম প্রশিক্ষক।ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক প্রবীণ মুসলমান দোকানদারের সমর্থনে বজরং দলের কর্মীদের মোকাবিলা করছেন তিনি।গত ২৬শে জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বজরং দলের কয়েকজন কর্মী কোটদোয়ারের 'বাবা স্কুল ড্রেস অ্যান্ড ম্যাচিং সেন্টার' নামের দোকানে যান।

 

সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে দীপক কাশ্যপ  বলছিলেন যে বজরং দলের সাত - আট জন সদস্য প্রায় ৭৫ বছর বয়সী এক মুসলমান ব্যবসায়ীর ওই দোকানে যান। দোকানের নাম থেকে 'বাবা' শব্দটি সরিয়ে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।ভিডিওটিতে দেখা গেছে বজরং দলের ওই কর্মীদের কথা বলার ধরন যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিল।এই সময়েই এক যুবক এগিয়ে এসে বজরং দল কর্মীদের বাধা দেন। মুসলমান ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে তর্ক করতে থাকেন।

 

বজরং দল কর্মীরা যখন ওই যুবকের নাম জানতে চান, তখন তিনি বলেন যে তার নাম মুহাম্মদ দীপক। তিনি বলেছেন, "আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নই, আমি একটা বিচারধারার সমর্থক।বাধা পেয়ে তখনকার মতো চলে যায় বজরং দল কর্মীরা।দীপক কাশ্যপ বলছেন যে ২৬শে জানুয়ারির পর থেকে তাকে বার বার আক্রমণ করার চেষ্টা হচ্ছে।তার কথায়, "৩১শে জানুয়ারি পরিস্থিতি হঠাৎই খারাপ হয়ে যায়। সেদিন দেরাদুন থেকে বজরং দলের প্রায় দেড়শো কর্মী কোটদোয়ারে আসে আর তার জিমে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকে, হাঙ্গামা চালায়।

 সঙ্গে চলতে থাকে তাকে এবং তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ। আমাকে তো সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ওরা প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা হাঙ্গামা করে।"বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় মানুষও তার সমর্থনে সামনে আসতে ভয় পাচ্ছিলেন। তার অভিযোগ, "বজরং দলের লোকেরা মারামারি করতেই এসেছিল। ওদের গাড়িতে অস্ত্র শস্ত্র ছিল।"

 

তার ওপরে যে হামলা হতে পারে, সেই আশঙ্কার কথা তিনি পুলিশকে জানিয়ে রেখেছিলেন। বজরং দলের কয়েকজন সদস্য ইনস্টাগ্রামে এ ব্যাপারে পোস্ট করেছিল।আমাকে থানায় বসিয়ে রাখা হলো, অথচ হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার কোনো চেষ্টা করেনি পুলিশ," বলছিলেন মি. কাশ্যপ।

তার কথায়, "যে কাজটা একজন মানুষ হিসাবে করেছিলাম, তার বদলে এখন যা ঘটনা ঘটছে, সেগুলো আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে। চিন্তা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে। তবে অন্যায়ের প্রতিবাদ যেভাবে করেছি, তার জন্য প্রাণ দিতে হলেও দেব। 
দীপকের এই মহান কাজের জন্য প্রশংসায় ভাসছে। সবাই তাঁকে হিরু বলে ডাকছে।  

 


সম্পর্কিত নিউজ