{{ news.section.title }}
অবৈধ কয়লা খনিতে ভারতে ভয়াবহ বিস্ফোরণঃ নিহত অন্তত ১৮
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ভারতের মেঘালয়ে ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলায় দুর্গম থাঙ্কসু এলাকায় অনুমোদনহীন এক কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন মাইন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এই বিস্ফোরণে অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে খনিটির ভেতরে আরও অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছে।
জৈন্তিয়া জেলা পুলিশপ্রধান বিকাশ কুমার এ বিষয়ে জানান, খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়লা উত্তোলনের জন্য বিস্ফোফরনের কাজে ডিনামাইটের ব্যবহার এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
দূর্ঘটনার খবর পেয়েই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উদ্ধারকারী দল উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। তবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে দুর্গম এলাকাটিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পুণরায় উদ্ধার কার্য শুরু হয়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মনিষ কুমার এ বিষয়ে উল্লেখ করেন, অবৈধ কয়লার খনিটি ছিলো একটি ’র্যাট-হোল’ বা ইঁদুরের গর্তের মতো সরু। এ ধরনের খনিতে খুব গভীর ও অপ্রশস্ত সুড়ঙ্গ তৈরি করে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা কয়লা সংগ্রহ করে।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতরে ধোঁয়ার কারণে ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আটকে থাকা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মূলত দগ্ধ হয়ে অথবা সুড়ঙ্গের ভেতরে জমা হওয়া ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে অবৈধ এই খনির সঠিক মানচিত্র এবং শ্রমিকদের সংখ্যা বিষয়ক কোনো তথ্য না থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি অবৈধ খনন বন্ধের বিষয়ে জোর দিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রত্যেকের জন্য ২ লাখ রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
পানিদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে মেঘালয়ের এইসকল পাহাড়ি অঞ্চলে ২০১৪ সাল থেকে ‘র্যাট-হোল’ পদ্ধতিতে খনি খনন কাজ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এখনও কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে দুর্গম পাহাড়গুলোতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক প্রতিদিন ১৮ থেকে ২৪ ডলার উপার্জনের আশায় এসব বিপজ্জনক খনিতে কাজ করে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মেঘালয়ে এরকম একটি খনিতে আটকা পড়ে ১৫ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
বারংবার এমন দুর্ঘটনার পরেও অবৈধ খনন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।