{{ news.section.title }}
চীনা বিমানবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পাইলট গ্রেফতার
অনুমোদন ছাড়া চীনা বিমানবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তা ও এলিট ফাইটার পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবেক এই এয়ার ফোর্স মেজর জেরাল্ড ব্রাউন ‘রানার’ নামে পরিচিত ছিলেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে জেরাল্ড কে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
জেরাল্ড ব্রাউন (৬৫) ২৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘ সময় F-35 Lightning II এর পাইলট হিসেবে কাজ করেছেন। এসময় তিনি যুদ্ধ মিশন পরিচালনাসহ পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ইউনিটসহ সংবেদনশীল ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ও গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজহাভস্কি তার অবৈধভাবে চীনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে বলেন, “তিনি যে দেশকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলেন, সেই দেশের বিরুদ্ধেই লড়াই করার জন্য চীনা পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি দেশদ্রোহিতার পথ বেছে নিয়েছেন।“
তিনি যোগ করেন, “চীনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়ন করছে। এই গ্রেফতার একটি সতর্কবার্তা।“
ব্রাউনের এই কাজে অন্যান্যদের সতর্ক করে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন ফেরিস পিরো বলেন, “ব্রাউন এবং আমাদের জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত যে কেউ, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।“
উল্লেখ্য পাইলট জেরাল্ড ১৯৯৬ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর বাণিজ্যিক কার্গো পাইলট হিসেবে কাজ করেন। পরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত হয়ে মার্কিন পাইলটদের এফ-৩৫ ও এ-১০ যুদ্ধবিমান চালানোর প্রশিক্ষণ দেন তিনি।
চীনা বিমানবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রশিক্ষণ দিতে ব্রাউন চীনে যান এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন।
প্রশিক্ষণের সেই চুক্তি করেন স্টিফেন সু বিন নামের এক চীনা নাগরিক। এদিকে স্টিফেন ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা ঠিকাদারের কম্পিউটার হ্যাক করে সামরিক গোপন তথ্য চুরির ষড়যন্ত্রে নিজের দোষ স্বীকার করে চার বছরের কারাদণ্ড পান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক মেরিন কর্পস পাইলট ড্যানিয়েল ডুগান কে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০১৪ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন। ২০২২ সালে চীন থেকে ফেরার পরপরই তাকে উক্ত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্ক করতে ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার একটি যৌথ নোটিশ প্রকাশ করে। নোটিশে বলা হয়, চীন বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের নিয়োগের চেষ্টা করছে, যাতে পশ্চিমা সামরিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পিএলএ (পিপলস লিবারেশন আর্মি) যে জ্ঞান অর্জন করছে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের, তাদের সহযোদ্ধাদের এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি।“
নোটিশে সর্বোচ্চ সতর্ক বার্তা দিয়ে জানানো হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ বা বিশেষজ্ঞ সেবা প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেসামরিক ও ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি হবেন।