{{ news.section.title }}
সোনার মজুত বৃদ্ধি করছে চীন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার ওপর নির্ভরশীলতা আরও জোরালো করছে চীন। সর্বশেষ সরকারি রিজার্ভ তথ্য অনুযায়ী, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (PBOC) টানা ১৬ মাস ধরে সোনার মজুত বাড়িয়ে চলেছে-যা চলতি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিতে চীনের রিজার্ভ কৌশলকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
ফেব্রুয়ারিতেও যোগ হলো নতুন সোনা
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ফেব্রুয়ারিতে তারা আরও ৩০ হাজার ট্রয় আউন্স সোনা কিনেছে। ফলে মোট সোনার মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪.২২ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্সে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধারা টানা ১৬ মাস চলায় বোঝা যায়-অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে চীন সোনাকে রিজার্ভ “বিমা” হিসেবে ব্যবহার করছে।
চীনের এই ধারাবাহিক কেনাকাটা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুদ্ধ-ঝুঁকি, সরবরাহ শৃঙ্খল অনিশ্চয়তা এবং বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত টানাপড়েনে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ সম্পদের দিকে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকেও সোনা এমন একটি সম্পদ-যা কোনো একক দেশের নীতিগত সিদ্ধান্ত বা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি বাঁধা নয়-এমন ধারণা বাজারে প্রচলিত।
কেন সোনা বাড়াচ্ছে চীন: রিজার্ভ ঝুঁকি কমানোর কৌশল
অর্থনীতি ও বাজার বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে সামনে আনছেন-
১) ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও “সেফ হ্যাভেন” চাহিদা
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ঘনীভূত হলে জ্বালানি বাজার, মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য-সবখানেই চাপ পড়ে। এ ধরনের সময়ে ঐতিহাসিকভাবে সোনার চাহিদা বাড়ে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতেও যুদ্ধ-উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২) রিজার্ভ বৈচিত্র্য (Diversification) ও মুদ্রা-ঝুঁকি হেজিং
বহু দেশই তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চায়। সোনা এখানে একটি বিকল্প “রিজার্ভ অ্যাসেট”-যার মূল্য সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে এবং বাজারে স্বীকৃতিও বিশ্বব্যাপী।
৩) কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ট্রেন্ড
শুধু চীন নয়-ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC)–এর গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা ২০২৫ সালেও শক্ত অবস্থানে ছিল, যদিও বছরভিত্তিক মোট ক্রয়ে ওঠানামা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট নিট ক্রয় ছিল উল্লেখযোগ্য (শত শত টন পর্যায়ে), এবং উদীয়মান অর্থনীতির অনেক ব্যাংক রিজার্ভ কৌশলে সোনাকে গুরুত্ব দিয়েছে।
সোনার দামে কী ঘটছে: যুদ্ধ-উত্তেজনায় চাপ
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যুদ্ধ-ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে দ্রুত ওঠানামা করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বাড়ায় সোনার দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠে যাচ্ছে-কিছু প্রতিবেদনে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে থাকার কথাও এসেছে।
(দ্রষ্টব্য: দাম প্রতিদিনই বদলায়-আপনার প্রকাশের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে “আজকের দাম” আপডেট করলে খবরটি আরও শক্ত হবে।)
অন্য দেশগুলো কী করছে: সবাই কি কিনছে, নাকি কেউ বিক্রিও করছে?
সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একই সময়ে কিছু দেশ কিনবে, কিছু দেশ বিক্রি করবে-এটাই স্বাভাবিক। WGC–এর রিপোর্টে ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে বড় ক্রেতা হিসেবে বিভিন্ন দেশের উল্লেখ আছে এবং কোথাও কোথাও স্বর্ণের রিজার্ভ কমানোর ঘটনাও দেখা যায়।
এই মিশ্র প্রবণতার মধ্যেও চীনের ধারাবাহিক কেনাকাটা আলাদা করে নজরে পড়ছে-কারণ এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এবং বাজারে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও ফেলে।
চীনের অর্থনীতিতে এর ইঙ্গিত কী
চীনের সোনা বাড়ানোকে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন-
- আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দীর্ঘ হতে পারে এমন “ঝুঁকি-ধারণা” হিসেবে,
- বৈদেশিক রিজার্ভকে বহুমুখী করে রাখার কৌশল হিসেবে,
- এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থিতিশীলতা তৈরির একটি পদক্ষেপ হিসেবে।
একই সঙ্গে, চীন বড় পরিসরে কিনলে বাজারে চাহিদার বার্তা যায়-যা স্বল্পমেয়াদে দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়-বিক্রয় সিদ্ধান্ত একমাত্র কারণ নয়; সুদের হার, ডলার সূচক, জিওপলিটিক্স-সবকিছুর মিলিত প্রভাবেই সোনার বাজার নড়ে।