{{ news.section.title }}
একযোগে ১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে পিয়ংইয়ংয়ের কাছের সুনান এলাকা থেকে একসঙ্গে ১০টিরও বেশি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব সাগর (জাপান সাগর) অভিমুখে ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (JCS) জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
উৎক্ষেপণের বিষয়টি জাপানও নিশ্চিত করেছে
দক্ষিণ কোরিয়ার ঘোষণার পর জাপানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে “সম্ভবত” ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, জাপান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি রেখেছে।
যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যে উত্তেজনা
এই উৎক্ষেপণ এমন সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে তাদের বার্ষিক বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ফ্রিডম শিল্ড চালাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে এবং এটি ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মহড়াকে সম্ভাব্য হামলার “রিহার্সাল” হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে শক্ত বার্তাও আসে। এ সপ্তাহের শুরুতে কিম জং উনের বোন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছিলেন, এই যৌথ সামরিক মহড়া “অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতি” ডেকে আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, এমন সময়ে এই মহড়া হচ্ছে যখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো দ্রুত বদলাচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
কূটনৈতিক বার্তা ও বৈঠকের আলোচনা
উত্তেজনার ভেতরেও কূটনৈতিক আলোচনা থেমে নেই। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হওয়া “ভালো” হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে-যদিও সময়সূচি ও শর্ত নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় এসব প্রস্তাব উপেক্ষা করার পর সম্প্রতি কিম জং উন বলেছেন-যুক্তরাষ্ট্র যদি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক রাষ্ট্রের মর্যাদা মেনে নেয়, তাহলে দুই দেশ “ভালোভাবে চলতে পারে”। তবে একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কঠোর অবস্থানও জানিয়ে দিয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নয়
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি প্রচেষ্টাকে তারা “অদক্ষ ও প্রতারণামূলক প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছে-এমন বক্তব্যও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা
ওয়াশিংটন বহু দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে শীর্ষ বৈঠক, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপের পরও এই ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া বারবার বলে আসছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা “আত্মরক্ষামূলক”; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, তারা প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অংশ হিসেবেই মহড়া চালায়।