{{ news.section.title }}
জ্বালানির দাম বাড়ায় ফিলিপাইনে বিক্ষোভ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন আর শুধু আঞ্চলিক সীমার মধ্যে নেই, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে ফিলিপাইন-এ জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক তৎপরতার ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে।
এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ফিলিপাইনে। গত এক মাসে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যের দাম-সবকিছুতেই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ইতোমধ্যে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতে। দেশের উত্তরাঞ্চল, যা প্রধান সবজি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, সেখানে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে বহুগুণ। যদিও উৎপাদন এলাকায় সবজির দাম তুলনামূলক কম, কিন্তু রাজধানী ম্যানিলায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং পরিবহন শ্রমিকরা একত্রে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ- শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি ও বাজার ব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ আইন পুনর্বিবেচনা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং জ্বালানির ওপর আরোপিত কর কমানো বা বাতিল করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, কারণ দেশটি প্রায় ৯৮ শতাংশ জ্বালানি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামান্য অস্থিরতাও তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে আসে। গত তিন সপ্তাহে একাধিকবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে, যা জনজীবনে চাপ আরও বাড়িয়েছে।
ফিলিপাইনের জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। তবে এই মজুদ দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সরকারের এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট মার্কোস বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহে আসন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় এই জরুরি ঘোষণা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর মাধ্যমে আমরা বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধু ফিলিপাইন নয়-বিশ্বের আরও অনেক দেশেই জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, খাদ্য সরবরাহ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি বাংলা