{{ news.section.title }}
ইসলামাবাদ আলোচনার আগে নতুন উত্তেজনা, অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছালেও, শর্ত ও অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো পূরণ হয়নি। তার মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা ছাড়া আলোচনা শুরু করা উচিত নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনা শুরুর আগেই ভেস্তে যেতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, সমঝোতা না হলে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরানের সামরিক নেতৃত্বও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতি তাদের আস্থা কমে গেছে এবং তারা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
লেবানন ইস্যুতে বড় বিভাজন
এই আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবানন পরিস্থিতি।
ইরান ও পাকিস্তান দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলছে, এই চুক্তি লেবাননে প্রযোজ্য নয়।
এদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় একদিনেই প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আলোচনার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি আলোচনায় ইতিবাচক ফলের আশা করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি সৎভাবে আলোচনা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই এখন নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরছে এবং এটি আলোচনার কৌশলের অংশ।
তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, ভিন্ন শর্ত এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। তবুও যদি আলোচনা শুরু হয় এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে, সেটিই হবে বড় অগ্রগতি।