{{ news.section.title }}
ইরানে ৪০ দিনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তালিকা প্রকাশ রেড ক্রিসেন্টের
ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত ৪০ দিনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিস্তৃত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে রেড ক্রিসেন্ট। এতে বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা, জরুরি সেবা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় দাবি করা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে একাধিক সংবেদনশীল খাতে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে মানবিক পরিস্থিতি গুরুতরভাবে অবনতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে
১. বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের হত্যার ঘটনা
২. নারী ও শিশুদের হতাহতের ঘটনা
৩. স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা
৪. আবাসিক ভবনে আঘাত
৫. বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হামলা
৬. অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহনে হামলা
৭. ত্রাণ সংস্থার কেন্দ্র, শাখা ও গুদামে আঘাত
৮. জরুরি সেবা কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা
৯. জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত
১০. পানি, বিদ্যুৎসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা
১১. পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা
১২. কৃষি গুদাম ও খাদ্য সংরক্ষণাগারে আঘাত
১৩. ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা
১৪. বন্দর ও নৌপরিবহন অবকাঠামোতে আঘাত
১৫. বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলা
১৬. সম্প্রচার ও প্রযুক্তিগত স্থাপনায় আঘাত
১৭. গণমাধ্যম কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা
১৮. গ্রন্থাগার ক্ষতিগ্রস্ত করা
১৯. বিনোদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে আঘাত
২০. হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা
২১. ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
২২. বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা
২৩. সেতু ও রেলপথসহ পরিবহন অবকাঠামোতে আঘাত
২৪. পরিবহন ও যাত্রীবাহী বিমান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ
২৫. ঐতিহাসিক স্থাপনায় আঘাত
২৬. ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগ
রেড ক্রিসেন্টের দাবি, এসব হামলার ফলে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং জরুরি সেবা ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে।
তবে এই অভিযোগগুলোর অনেকগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত চলাকালে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়, তবে এগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, ইরানে ৪০ দিনের এই সংঘাত কেবল সামরিক নয়, বরং মানবিক বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতি ও আইনগত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।