{{ news.section.title }}
ইরানে অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন-এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা বার্তার ভিত্তিতে তিনজন অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তৈরি করেছে।
মার্কিন পক্ষ এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখছে। যদিও এর আগে বেইজিং দাবি করেছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তারা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
এদিকে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বেইজিং সফরের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। এমন পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ নতুন করে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতির এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় নির্দিষ্ট অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের।
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, চীন সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এসব অস্ত্র ইরানে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে, যাতে উৎস গোপন রাখা যায়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বেইজিং কাঁধে বহনযোগ্য অ্যান্টি-এয়ার মিসাইল সিস্টেম সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে চীন। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, “সংঘাতে কোনো পক্ষকেই চীন কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি।” তিনি এই সংক্রান্ত খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে। এই বিরতির মধ্যেই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং আলোচনায় কঠোর শর্ত দিচ্ছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।