{{ news.section.title }}
ইউরোপীয় দেশ সাইপ্রাসের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র সাইপ্রাসের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং চলমান সংঘাত আঞ্চলিক সীমা অতিক্রম করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশপ্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী সাইপ্রাসের অভিমুখে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে প্রাথমিকবিশ্লেষণে এখনো নিশ্চিত হওয়াযায়নি যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরিব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করাহয়েছিল কি না।
সম্প্রতিইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায়যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিতহামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যেউত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। এর জবাবে ইরানইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ইসরায়েলঘনিষ্ঠ লক্ষ্যবস্তুতেহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।সেই ধারাবাহিকতায় এবার সংঘাতের প্রভাবইউরোপীয় অঞ্চলের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ভৌগোলিকভাবেপশ্চিম এশিয়ার সীমান্তবর্তী হলেও সাইপ্রাস রাজনৈতিকভাবেইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র। ২০০৪ সালের ১মে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয় এবংপরবর্তীতে ২০০৮ সালে ইউরোমুদ্রা চালুর মাধ্যমে ইউরোজোনের অংশ হয়ে ওঠে।ফলে দেশটিতে হামলার ঘটনা ইউরোপীয় নিরাপত্তাকাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাবফেলতে পারে।
ব্রিটিশপ্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোযুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনাকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে-এমন প্রমাণ পাওয়াযায়নি। তবে হামলার ধরনবিশ্লেষণ করে তিনি মন্তব্যকরেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলেরইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনিআরও জানান, বাহরাইনের নিকটবর্তী এলাকায় প্রায় ৩০০ ব্রিটিশ সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যারা বর্তমানে উচ্চসতর্কতায় অবস্থান করছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও সংলগ্ন অঞ্চলেপশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি থাকায় সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদেরমতে, সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠঅংশীদার হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে ইসরায়েলি বিনিয়োগ, সম্পদ ও লজিস্টিক সুবিধাথাকার কারণে এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণঅবস্থান দখল করে আছে।বিভিন্ন সময়ে সংকটকালীন পরিস্থিতিতেইসরায়েল তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিকও বেসামরিক সম্পদ সেখানে সরিয়ে রাখে বলেও আন্তর্জাতিকমহলে আলোচনা রয়েছে।
ইরানেরএই হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টিকরতে পারে। কারণ, সংঘাত যদি ইউরোপীয় সদস্যরাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ে, তাহলেন্যাটো ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোরপ্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হওয়ারসম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববাজারবিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলেউত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা, সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ এবং আন্তর্জাতিকবিনিয়োগ পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।বিশেষ করে সাইপ্রাসকে ঘিরেসামরিক উত্তেজনা পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২দিনের সংঘর্ষের সময়ও ইরান সাইপ্রাসকেলক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলবলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়। সেইঅভিজ্ঞতা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করেতুলেছে।
রাজনৈতিকপর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতের ভৌগোলিকবিস্তার এখন সবচেয়ে বড়উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সামরিক উত্তেজনা যদি ইউরোপীয় অঞ্চলেছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এটিবহুপাক্ষিক সামরিক জোটগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে পারে। এতেএকটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কারয়েছে।
বিশেষজ্ঞরামনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ মূলতকৌশলগত বার্তা দেওয়ার অংশ-যার মাধ্যমেপশ্চিমা মিত্রদের জানানো হচ্ছে যে সংঘাত সীমিতঅঞ্চলে আটকে থাকবে না।একই সঙ্গে এটি প্রতিরোধমূলক চাপসৃষ্টিরও একটি প্রচেষ্টা হতেপারে।
সামগ্রিকভাবে, সাইপ্রাসের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত ক্রমেই বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আঞ্চলিক সংকট আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।