ইরানে ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা হঠাৎ করেই নজিরবিহীন মাত্রায় বেড়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকে একের পর এক কৌশলগত মোতায়েন, আকাশ ও সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শন এবং নীরব কূটনৈতিক ভাষ্য, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে ডজনের পর ডজন C-17 গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান যুক্তরাজ্য হয়ে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি ও সৌদি আরবে অবতরণ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ১৬০তম স্পেশাল অপারেশনস এভিয়েশন রেজিমেন্ট (নাইট স্টকার্স) যুক্তরাজ্যের RAF Fairford–এ অবস্থান নিয়েছে। কাছাকাছি ঘাঁটিতে নামানো হয়েছে AC-130J গানশিপ, যা স্থলভিত্তিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাতে সক্ষম।
আকাশে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। MQ-4C Triton ড্রোন প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী পর্যবেক্ষণ করছে। সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, USS Carl Vinson এবং USS Nimitz। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালিত হচ্ছে প্রায় ১৮০টি যুদ্ধ ও সহায়ক বিমান, যার মধ্যে F-35C ও F/A-18 রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের ধরন জুন ২০২৫–এ অপারেশন মিডনাইট হ্যামার–এর আগের প্রস্তুতির সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিলে যাচ্ছে। তখনই স্টেলথ সক্ষমতা ও স্পেশাল অপারেশনসের সমন্বয়ে ইরানের সংবেদনশীল স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছিল।
রাজনৈতিক ভাষ্যও পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করছে। ২ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন,
“ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, আমরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসব।”
এই বক্তব্যকে অনেকেই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এদিকে পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান দেশজুড়ে এয়ার ডিফেন্স সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়েছে। আরও গুরুতর একটি তথ্য সামনে এসেছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামিনি–এর ঘনিষ্ঠ মহল স্বর্ণ ও পরিবার মস্কোতে সরানোর জন্য একটি এক্সিট রুট প্রস্তুত করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। যদিও এখনই দেশত্যাগের প্রমাণ নেই, তবু এটিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, এটি হয়তো ভীতি প্রদর্শন, হয়তো সীমিত আকারের নির্দিষ্ট হামলার প্রস্তুতি। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত: নাইট স্টকার্স যখন যুক্তরাজ্যে স্টেজিং নিয়ে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়, ইতিহাস বলছে সেটি কখনোই নিছক মহড়া থাকে না।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রে জমতে থাকা এই উত্তেজনা যে কোনো সময় বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে, বিশ্ব এখন সেই দিকেই তাকিয়ে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।