{{ news.section.title }}
এক হাজার কর্মী নিয়ে আবার গাজা যাবে 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আগামী মার্চে আরও বড় পরিসরে নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীরা। গাজামুখী এই উদ্যোগের নাম গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এটি গাজার জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমন্বিত বেসামরিক মানবিক অভিযান।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে শতাধিক নৌযান নিয়ে এই বহর যাত্রা করবে। এতে সর্বোচ্চ এক হাজার মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে প্রয়াত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা-এর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ফাউন্ডেশনে আয়োজিত বৈঠক থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ও মানবাধিকারকর্মী মান্ডলা ম্যান্ডেলা। তিনি বলেন, গাজায় ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আরও জানান, নৌবহরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি আরব দেশের ভেতর দিয়ে একটি স্থল কনভয়ও পরিচালনা করা হবে। এতে হাজারো সমর্থক যুক্ত হতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রায় ৪০টি নৌযান আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দেয় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। সে সময় ৪৫০ জনের বেশি মানবাধিকারকর্মীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনের পরিচিত মুখ গ্রেটা থুনবার্গ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসান। মুক্তি পাওয়ার পর কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ইসরায়েলি হেফাজতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আগের মতোই এই ধরনের মানবিক বহরকে প্রচারমূলক উদ্যোগ বলে দাবি করেছে। তবে ফ্লোটিলা আয়োজকদের বক্তব্য, গাজার ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া বেআইনি। তাদের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে গাজার মানবিক সংকটের বিষয়টি নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট চলছে। সীমিত যুদ্ধবিরতির পর কিছু সহায়তা প্রবেশ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
আয়োজকেরা আশঙ্কা করছেন, নতুন এই বহরও ইসরায়েলি বাধার মুখে পড়তে পারে। তবু তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন তাদের পক্ষে রয়েছে এবং এই যাত্রা গাজার সাধারণ মানুষের প্রতি বৈশ্বিক সংহতির শক্ত বার্তা বহন করবে।
একজন অংশগ্রহণকারী সুসান আবদাল্লাহ বলেন, তারা হয়তো এখনও গাজায় সরাসরি পৌঁছাতে পারেননি, তবে গাজার মানুষের কাছে তাদের সংহতির বার্তা পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।