তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
ছবির ক্যাপশান, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: এএফপি (ফাইল)
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

তুরস্কের একটি এফ-১৬ ফ্যালকন যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই রেডিও যোগাযোগ এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই সামরিক কর্তৃপক্ষ জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধার (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) অভিযান শুরু করে। কিছু সময় পর দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের পাইলট শহীদ হয়েছেন।” একই সঙ্গে নিহত পাইলটের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী ও সরকার। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কে সামরিক বিমান দুর্ঘটনা

তুরস্কের সামরিক বিমান বাহিনীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত নভেম্বরে তুরস্ক একটি কার্গো বিমানের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল নিরাপত্তাজনিত কারণে। একই সময়ে প্রতিবেশী জর্জিয়ায় একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আজারবাইজান থেকে ফেরার পথে থাকা ২০ আরোহীর সবাই নিহত হন। এ ঘটনাটি আঞ্চলিক সামরিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বৈশ্বিক দুর্ঘটনা প্রবণতা

এফ-১৬ ফ্যালকন যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন নির্মিত একটি বহুল ব্যবহৃত মাল্টিরোল ফাইটার জেট। বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের বিমান বাহিনীতে এই বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে এফ-১৬ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটায় এর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং পাইলট প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে তাইওয়ানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনের সময় সাগরে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় পাইলট ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও পরে তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত আগস্টে পোল্যান্ডে একটি এফ-১৬ এয়ার শোর মহড়ার সময় বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি, সফটওয়্যার সমস্যাসহ মানবিক ভুলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

তদন্তের দিকনির্দেশনা

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে বিমানটির ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার, রাডার তথ্য, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পাইলটের শেষ যোগাযোগ বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সামরিক বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।


সম্পর্কিত নিউজ