ইসরায়েল আমেরিকাকে যে কঠোর বার্তা দিলো আইআরজিসি

ইসরায়েল আমেরিকাকে যে কঠোর বার্তা দিলো আইআরজিসি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তাঁর জন্য শোকাহত।”

একই সঙ্গে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “ইরানিদের প্রতিশোধের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না”-এবং দেশীয় ও বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি অটল থাকবে।

খামেনির মৃত্যুর ঘটনাকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, “সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও মানবতার হত্যাকারীদের হাতে খামেনির শাহাদাত” প্রমাণ করে-তার নেতৃত্ব ও সেবাগুলো “স্বীকৃত” ছিল। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের ঘোষণা ও ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট

খামেনির নিহত হওয়ার দাবি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে লেখেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন”-এমন বক্তব্যই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর তার মৃত্যুর খবর সামনে আসে এবং পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তা নিশ্চিত করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা: ৪০ দিনের শোক, ৭ দিনের ছুটি

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) রোববার সকালে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা “শাহাদাত বরণ করেছেন।” এ ঘোষণার পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং তাঁর স্মরণে ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার খবরও প্রকাশ হয়।

এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানের বিমান চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়।

আইআরজিসির নতুন হুঁশিয়ারি: ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ‘বিধ্বংসী আক্রমণ’

খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আইআরজিসি আরও এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে “বিধ্বংসী” আক্রমণ শুরুর ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “অধিকৃত অঞ্চল এবং মার্কিন সন্ত্রাসী ঘাঁটি” লক্ষ্য করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে “সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক” অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।

ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য: চাপ বাড়লে ‘কূটনৈতিক সমাধান সহজ’

খামেনির মৃত্যুর পর উত্তেজনা যখন চরমে, তখনই ট্রাম্প নতুন করে দাবি করেন-এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান “আগের যেকোনো সময়ের তুলনায়” সহজ হতে পারে। বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে ফোনকল/সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামরিক অভিযান “সফলভাবে” এগোচ্ছে এবং ইরান বর্তমানে বড় চাপের মধ্যে থাকায় সমঝোতার সম্ভাবনা বেড়েছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের পররাষ্ট্রনীতি-ঝুঁকি এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক দর-কষাকষির নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

কে নেতৃত্ব দেবেন-অনিশ্চয়তা, এবং সামনে কী

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে আসবেন-সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির কড়া অবস্থান ও ‘প্রতিশোধ’-বার্তার ফলে অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা, নতুন নিষেধাজ্ঞা, এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার ঝুঁকি বাড়ছে।

এই মুহূর্তে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের মাত্রা, এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক/কূটনৈতিক পদক্ষেপ-সবকিছুই পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করবে।


সম্পর্কিত নিউজ