ইরানে ২৪ ঘন্টায় গুরুত্বপূর্ণ যেসকল ব্যক্তিকে হত্যা করল ইসরায়েল আমেরিকা

ইরানে ২৪ ঘন্টায় গুরুত্বপূর্ণ যেসকল ব্যক্তিকে হত্যা করল ইসরায়েল আমেরিকা

গত ২৪ ঘণ্টায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত, ইসরায়েল-আমেরিকান হামলায় ইরানের নিহত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা:

১) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সুপ্রিম লিডারকে তেহরানের নিজস্ব কম্পাউন্ডে যা দক্ষিণ তেহরানের অবস্থিত নিরাপদ একটি স্থান, সেখানে সকালের দিকে যৌথ ইসরায়েল-আমেরিকান এয়ার স্ট্রাইকে নিহত হয়েছেন। তিনি সিনিয়র উপদেষ্টাদের সাথে মিটিং করছিলেন। কম্পাউন্ড সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নিহত হওয়ার সংবাদ ইরানি স্টেট মিডিয়া ও ইসরায়েলি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২) জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর (IRGC-এর কমান্ডার ইন চিফ)  তেহরানে সিনিয়র মিলিটারি লিডারদের একটি গোপন মিটিংয়ে ইসরায়েলি এয়ারস্ট্রাইকে নিহত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (IDF) সরাসরি নিশ্চিত করেছে।

৩) জেনারেল আমির আজিজ নাসিরজাদেহ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রী)  তেহরানের একটি সামরিক-সরকারি সমাবেশে যৌথ হামলায় নিহত। ইসরায়েলি মিলিটারি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত।

৪)  আলী শামখানি (সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি ও খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা)  তেহরানে খামেনির সাথে মিটিং চলাকালীন একই এয়ারস্ট্রাইকে নিহত। IDF স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে।

৫) মোহাম্মদ শিরাজি (খামেনির মিলিটারি ব্যুরোর প্রধান)  তেহরানের লিডারশিপ গ্যাদারিংয়ে টার্গেটেড এয়ারস্ট্রাইকে নিহত। ইসরায়েলি সূত্রে নিশ্চিত।

৬) ডিফেন্স ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশন (SPND)-এর চেয়ারম্যান (নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তা)  

তেহরানের একটি সামরিক-গবেষণা সাইটে হামলায় নিহত (প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মধ্যে একজন)। এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি ও আমেরিকান সূত্র জানিয়েছে। বেশিরভাগই তেহরানে সকালের প্রথম দফা এয়ারস্ট্রাইকে নিহত হন যখন লিডাররা একসাথে মিটিংয়ে ছিলেন। ইরান এখনও সব নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, কিন্তু খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় নিহতের সংখ্যা ২, ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা ১২১।  একই সময়ে আমেরিকা-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ২০১, এর আহতের সংখ্যা ৭৪৭। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তাঁর জন্য শোকাহত।”

একই সঙ্গে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “ইরানিদের প্রতিশোধের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না”-এবং দেশীয় ও বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি অটল থাকবে।খামেনির মৃত্যুর ঘটনাকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, “সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও মানবতার হত্যাকারীদের হাতে খামেনির শাহাদাত” প্রমাণ করে-তার নেতৃত্ব ও সেবাগুলো “স্বীকৃত” ছিল। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা: ৪০ দিনের শোক, ৭ দিনের ছুটি

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) রোববার সকালে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা “শাহাদাত বরণ করেছেন।” এ ঘোষণার পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং তাঁর স্মরণে ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার খবরও প্রকাশ হয়।

এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানের বিমান চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়।


সম্পর্কিত নিউজ