{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ আগ্রাসন’-এর অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার, খামেনি হত্যায় শোক পুতিনের
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রার উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে “অবৈধ আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলা দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতিইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায়যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিতহামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যেনিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলিখামেনির নিহত হওয়ার ঘটনায়বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এইঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমনসামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে বিশ্ব শক্তিগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
উত্তরকোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ অপ্রত্যাশিত নয়; বরং দীর্ঘদিনেরআধিপত্যবাদী নীতির ধারাবাহিক ফলাফল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শক্তি প্রদর্শনমূলক’ আচরণই অঞ্চলটিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিবৃতিতেআরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পরিচালিত এই সামরিক অভিযানমূলত একটি “আগ্রাসী যুদ্ধ”, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্যহতে পারে না। উত্তরকোরিয়া মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যেস্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক দেশগুলোরপাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বৃহৎসামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণাদিয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক সূত্র দাবি করেছে, খামেনিনিহত হওয়ার পর ইরানের সামরিকসক্ষমতা আরও দুর্বল করতেএই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকবিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে একাধিক স্থানে নতুন করে বিস্ফোরণও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই সংঘাতের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্নদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলাচালিয়েছে বলে দাবি করেছে।সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহকয়েকটি দেশে এসব হামলায়হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়েউঠেছে।
বিশ্লেষকদেরমতে, চলমান পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেইসীমাবদ্ধ নেই; বরং এটিবৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ এবং কূটনৈতিকসম্পর্ক-সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতাতৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলেসামরিক সংঘর্ষ বিস্তৃত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেওএর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলিখামেনির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশকরেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের প্রেসিডেন্টমাসুদ পেজেশকিয়ানের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বার্তায় পুতিনএই ঘটনাকে “নৃশংস হত্যাকাণ্ড” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুতিনতার বিবৃতিতে বলেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনেরমৌলিক নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এইঅবস্থান বৈশ্বিক শক্তির বিভক্ত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাসামরিক পদক্ষেপকে নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ারমতো দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞদেরধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিলে তানতুন ধরনের ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। এতেজাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যস্থতার গুরুত্ব বাড়লেও কার্যকর সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতেপারে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলেরসামরিক অভিযান, উত্তর কোরিয়ার কঠোর নিন্দা এবংরাশিয়ার প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে এক জটিল ওঅনিশ্চিত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এখনআন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণেএনে বৃহত্তর যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানো এবং কূটনৈতিক আলোচনারমাধ্যমে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।