বন্ধ হরমুজ প্রণালী, দুই প্রান্তে শত শত জাহাজ আটকা

বন্ধ হরমুজ প্রণালী, দুই প্রান্তে শত শত জাহাজ আটকা

ইরানে ইসরায়েল-আমেরিকার ভয়াবহ যৌথ হামলার পর বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানি নৌবাহিনী।

এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে প্রণালীর দুই প্রান্তে শত শত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাহী জাহাজ আটকা পড়ে আছে।

কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্যের বরাতে প্রকাশ করেছে যে অন্তত ১৫০টি বিশালাকার তেলবাহী ট্যাংকার বর্তমানে হরমুজ প্রণালির বাইরে সমুদ্রে নোঙর ফেলে অবস্থান করছে।
এগুলোর মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি বাহী জাহাজের সংখ্যা বেশি। প্রণালির অপর প্রান্তে স্থির দাঁড়িয়ে আছে কয়েক ডজন জাহাজ।
জাহাজগুলোর বেশিরভাগ ই বর্তমানে ইরাক, সৌদি আরব এবং কাতার উপকূলের কাছে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০% জ্বালানি তেল এবং মোট এলএনজি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আকস্মিক হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে।
এই পরিবহণ অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
রুশ বার্তা সংস্থা ক্যাস্পিয়ান পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বর্তমানে তেলের দাম ৮০ ডলারের আশেপাশে রয়েছে তবে এই অচলাবস্থা চলমান থাকলে তা লাফিয়ে ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুট বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

এছাড়া বেশ কতক শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি জায়ান্ট কাতার এবং জায়ান্ট তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম যেন পুরোপুরি থমকে যাওয়ার পথে আছে।
এর প্রভাবে কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ইতিমধ্যে ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর মুহুর্তে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭৮.৫ ডলারে পৌঁছেছে।
তেলের দাম ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে জেপি মরগানের মতো সংস্থাগুলো। আবার ইরানও স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছে যে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতি ব্যারেলের দাম ২৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।

উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান রয়েছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের মতো দেশগুলো তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেল এই পরিবহণ পথ ব্যবহার করেই বিশ্ববাজারে পাঠিয়ে থাকে।
এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজসমূহের জ্বালানির প্রায় ৮২ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। বিশেষ ভাবে চীনের মোট এলএনজি আমদানির ২৪ শতাংশ এই পরিবহণ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল।
প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করে। পথটিতে ব্যস্ততম সময়ে প্রতি ছয় মিনিটে একটি করে জাহাজ যায় গড়ে।


সম্পর্কিত নিউজ