{{ news.section.title }}
কেনো অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে আঘাত হানল ইরান?
চলমান ইরান ইসরায়েল আমেরিকার সংঘাত যেনো সবদিকেই ছড়িয়ে পড়েছে। কখনো মাইক্রোসফট অফিসে হামলা তো কখনো তেলবাহী ট্যাংকার আবার কখনো ডাটা সেন্টারে। এবারে যুদ্ধ ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক দুটোতেই একসাথে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। চলমান সংঘাতের মাঝে অ্যামাজন জানিয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি ডেটা সেন্টার ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি বাঁজেভাবে হামলা করা হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে ক্লাউড পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে।
কোম্পানিটি তাদের সার্ভিস আপডেটস ড্যাশবোর্ডে জানায়, বাহরাইনে-এ অবস্থিত একটি স্থাপনাও “নিকটবর্তী ড্রোন হামলায়” ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল ও আমেরিলা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতির শিকার হয়েছে; এসব শহর হামলা ও ছিটকে আসা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, এই হামলাগুলো কাঠামোগত ক্ষতি করেছে, আমাদের অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত পানি দ্বারা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ড্রোন হামলায় তাদের কোনো কর্মী আহত হয়েছেন কিনা তা কোম্পানিটি উল্লেখ করেনি। তারা জানায়, পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে কর্মীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
ড্রোন হামলায় AWS-এর অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, হামলায় ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রযুক্তিগত সরঞ্জামে পানি দ্বারা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়েছে। পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে AWS স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ME-CENTRAL-1 অঞ্চলে তিনটি অ্যাভেইলেবিলিটি জোনের মধ্যে দুটি (mec1-az2 ও mec1-az3) গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৃতীয় জোন (mec1-az1) স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালালেও ক্ষতিগ্রস্ত জোনগুলোর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে কিছু সেবা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস বিশ্বের শীর্ষ ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটি মাইক্রোসফট এবং গুগল ক্লাউড এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জনপ্রিয় অ্যাপ ও ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য অবকাঠামো সরবরাহ করে, পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিকেও শক্তি জোগায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রাখতে এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থিত অ্যামাজনের সার্ভারে স্যুইচ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যামাজনের যে তিনটি সেন্টারে আঘাত করা হয়েছে এর মধ্যে দুটি সেন্টার থেকে সার্ভিস গ্রহণ করতো ইসরায়েল। ইসরায়েল মিলিটারি মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু সেবা অপারেট করার জন্য অ্যামাজনের এসব অফিসের সাথে যুক্ত থাকায় হামলা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির জ্যষ্ঠ কর্মকর্তা। রবিবার, অ্যামাজন জানায় যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের একটি ডেটা সেন্টার “বস্তু” দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তবে বিস্তারিত উল্লেখ করেনি এবং ব্যবহারকারীদের অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
প্রযুক্তি ক্লাউডে প্রথম সামরিক হামলা: সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে—এটি প্রথমবারের মতো কোনো বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ডেটা সেন্টার সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলা ঘটে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের পর, যা চালানো হয়েছিলইসরায়েল আমেরিকা-এর হামলার জবাবে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতাআয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়।এই নজির রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল অঞ্চলে বিগ টেক কোম্পানিগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে কৌশলগত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের সংঘাতগুলোতে প্রতিপক্ষরা মূলত তেল ও গ্যাস অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করত। তবে ‘কম্পিউট যুগে’ ডেটা সেন্টার এবং সেগুলোর সহায়ক জ্বালানি ও ফাইবার নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস (AWS) জানিয়েছে, ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার ব্যর্থতার হার দেখা যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের তাদের ওয়ার্কলোড অন্য অঞ্চলে পুনর্নির্দেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মাইক্রোসফট, গুগল এবং ওরাকল সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করে, যা এই ঘটনার মাধ্যমে পুরো প্রযুক্তি শিল্পের বিস্তৃত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে।
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস সতর্ক করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। অন্যদিকে আমেরিকা এর কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। এই অস্থিতিশীলতা অঞ্চলে সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড অবকাঠামোতে করা বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।