{{ news.section.title }}
ইসরায়েল - আমেরিকার যে তিনটি ভুলের কথা জানাল ইরান
বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই যুদ্ধ শুধু তিনটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বিশ্ব রাজনীতির উপরও বড় প্রভাব ফেলছে।
সম্প্রতি সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন ইসরায়েল এবং আমেরিকা একাধিক বিমান হামলা চালায় ইরান -এর সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর উপর। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। হামলার ফলে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও চুপ করে থাকেনি। তারা পাল্টা হামলা হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার হুমকি দিয়েছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আইআরজিসি (IRGC) মুখপাত্র জানিয়েছে যুদ্ধের পরিকল্পনাকারীরা তিনটি ভুল হিসাব নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথমত, তারা কল্পনা করেছিল যে বিপ্লবের নেতাকে হত্যা করতে পারলে ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে পড়বে। দ্বিতীয়ত, তারা ধারণা করেছিল এই যুদ্ধ তিন দিন স্থায়ী হবে। তৃতীয়ত, তারা আশা করেছিল ইরানের বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হবে—কিন্তু এই তিনটি হিসাবই ব্যর্থ হয়েছে।
আমেরিকান ও “ইসরাইলি” ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ২০০-এরও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের মোট অগ্নিশক্তির প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, আর ৪০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে জায়নিস্ট শাসনের লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে।এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে থাকা কৌশলগত FPS রাডারসহ কয়েকটি উন্নত রাডার ধ্বংস করা হয়েছে, পাশাপাশি জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা THAAD রাডার সিস্টেমও ধ্বংস করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের। পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও উন্নত এবং কম ব্যবহৃত দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নতুন ধরনের হামলার কৌশল গ্রহণ করা হবে।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান অপারেশনের গতিতে কমপক্ষে ছয় মাস ধরে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত যে গতিতে বিস্তৃত হয়েছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের একাধিক দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে বেসামরিক প্রাণহানি, স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ক্ষতি, বাস্তুচ্যুতি এবং জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সংঘাতকে আরও রাজনৈতিকভাবে “শর্তভিত্তিক” দিকে ঠেলে দিয়েছে। আল জাজিরার একটি লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে ‘unconditional surrender’ (নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ)-এর কথা বলেছেন।একই ধারায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটের বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে ইঙ্গিত আসে-যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অর্জন সম্ভব বলে মনে করছে। যুদ্ধের মাঠে এই ধরনের সময়সীমার কথা বলা সাধারণত দু’ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়-একদিকে এটি অভ্যন্তরীণ জনমতকে “পরিকল্পিত অপারেশন” হিসেবে দেখাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপেও রাখে। তবে বাস্তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে মানবিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় দ্রুত বাড়ে।