{{ news.section.title }}
মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ঘিরে তেহরানের ভেতরের ক্ষমতাকেন্দ্রগুলো দ্রুত পুনর্বিন্যাসে যাচ্ছে-এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।
আল জাজিরার লাইভ আপডেট ও দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বা সরকারিভাবে সরাসরি ঘোষণার ধরন ও ভাষা কী হচ্ছে, এবং সিদ্ধান্তটি কীভাবে আনুষ্ঠানিকতা পাচ্ছে। কারণ ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের দায়িত্ব অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের, আর সিদ্ধান্ত ঘোষণার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগত ধাপ থাকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কঠোর গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে, ফলে নিশ্চিতকরণে সময় লাগছে।
কীভাবে নতুন নেতা বাছাই হয়
ইরানে সুপ্রিম লিডার নিয়োগ দেয় ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-যাদের নির্বাচন হলেও কার্যক্রম সাধারণত পর্দার আড়ালে হয়। সংগঠনটির সদস্যরা দেশের শীর্ষ আলেম ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। চলমান সংকটের মধ্যে এই পরিষদের বৈঠক আহ্বান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং সিদ্ধান্তের ঐকমত্য-সবকিছুই এখন তেহরানের জন্য উচ্চ ঝুঁকির বিষয়।
মোজতবা খামেনি কেন আলোচনায়
মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে প্রভাবশালী বলে পরিচিত। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন, প্রকাশ্য রাজনীতিতেও সাধারণত সামনে থাকেন না। তবুও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তার নাম ওঠে মূলত দুই কারণে-এক, তিনি প্রয়াত নেতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অংশ; দুই, ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো-বিশেষ করে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভ্যলুশনারি গার্ড কর্পস)-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এ কারণে সমর্থকদের কাছে এটি “ধারাবাহিকতা” হিসেবে দেখা হলেও সমালোচকদের কাছে এটি “ক্ষমতার উত্তরাধিকার” বিতর্ককে উসকে দিতে পারে।
ইরানের ভেতরে কী বার্তা যাচ্ছে
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য/সমর্থনের বার্তা দিচ্ছে-যা সাধারণত ক্ষমতা স্থানান্তরের সময় রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা দেখানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এখন তেহরানের প্রধান লক্ষ্য-কারণ চলমান সংঘাতে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে রাষ্ট্রযন্ত্র দুর্বল দেখাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, ও “রেজিম চেঞ্জ” বাস্তবতা
এদিকে যুদ্ধ-সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তব গোয়েন্দা মূল্যায়নের মধ্যে ফারাকের কথাও সামনে আসছে। ওয়াশিংটন পোস্ট একটি শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফাইড) মূল্যায়নের বরাতে লিখেছে-বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সহজে উৎখাত করা যাবে না; কারণ নেতৃত্ব হারালেও রাষ্ট্রযন্ত্র টিকে থাকার মতো কার্যকর প্রটোকল/কাঠামো গড়ে তোলা আছে।
এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয়-ইরানে নেতৃত্ব বদল ঘটলেও রাষ্ট্র কাঠামো “ধসে পড়া” বা “তাৎক্ষণিকভাবে উল্টে যাওয়া” সম্ভাবনা কম, বরং তেহরান দ্রুত উত্তরসূরি দাঁড় করিয়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইবে।
সামনে কী হতে পারে
নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলে তিনটি বিষয় দ্রুত স্পষ্ট হতে পারে:
- যুদ্ধ-সংকট ব্যবস্থাপনায় তেহরানের নতুন সিদ্ধান্তের ধরণ,
- আইআরজিসি ও নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান হচ্ছে,
- অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য-বিশেষ করে সিনিয়র আলেম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে দাবিগুলো এসেছে, সেগুলো ইরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও একাধিক স্বাধীন উৎসের নিশ্চিতকরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।