{{ news.section.title }}
যে তিন কারণে মনে করা হচ্ছে নেতানিয়াহু আর নেই
৭ মার্চ রাতে নেতানিয়াহুর বাসভবনে হামলার একটি তথ্য প্রচার করে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এরপর থেকেই মুলত আলোচনায় নেতানিয়াহুর আহত ও নিহতরে বিষয়টি। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এবং একই হামলায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হামলার সময় তিনি ওই বাসভবনের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন এবং বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। একই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। নেতানিয়াহুর মারা গেছে এটির প্রমাণ হিসেবে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো যে তিনটি বিষয় বলছে, প্রথমত সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন কোনো ভিডিও বা জনসম্মুখে উপস্থিতি দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ত, তার বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তৃতীয়ত, কিছু নির্ধারিত কূটনৈতিক সফর স্থগিত করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজ সাধারণত ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও তাদের আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় শীর্ষ নেতাদের জনসম্মুখে দেখা কম হয়। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ৭ মার্চ নেতানিয়াহু কার্যালয় থেকে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন এবং ৬ মার্চ বিয়ারশেবার এলাকায় পরিদর্শনকালে তাকে দেখা গিয়েছিল
বিশ্লেষকগণ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও প্রকাশ হয়নি, অথচ যুদ্ধ চলাকালীন অতীতে নেতানিয়াহু প্রায়ই সামনে আসতেন, বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থানেও দেখা যেতো তাকে। এছাড়াও সম্প্রতি তাকে ইসরায়েলি কোনো সংবাদ মাধ্যমে নেতানিয়াহুকো লাইভে দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। এদিকে হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম জানিয়েছে হঠাৎ তার বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার অনেক বেশি করা হয়েছে যা অতীতের যুদ্ধকালীন সময়ের চেয়ে দ্বিগুন। এসব আলোচনার মাঝেই নেতানিয়াহুর কারনে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেদ কুশনারের নির্ধারিত সফর স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি বিবৃতি সামনে আসে যেখানে কথোপকথনের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ নেতানিয়াহুর মৃত্যুর বিষয়কে সঠিক ধারণা করছেন। নেতানিয়াহুর মৃত্যুর বিষয় নিয়ে আল জাজিরা বিবিসি সিএনএন সহ আন্তজার্তিক আরো বেশ কিছু মিডিয়া এখনো কোনো সংবাদ প্রচার করেনি।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব তথ্য কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নথি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল ৭ মার্চ। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর বিরশেবায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে উভয় পক্ষের মিডিয়ায় প্রায়ই তথ্যযুদ্ধ বা প্রোপাগান্ডা দেখা যায়। অনেক সময় যাচাইবিহীন তথ্য বা গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উঠে আসে।