{{ news.section.title }}
হরমুজ প্রণালিতে মাইন! ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে-মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর বরাতে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান নাকি এই সংকীর্ণ জলপথে সীমিত সংখ্যক নৌ-মাইন বসানো শুরু করেছে। যদিও এখনো এটি ব্যাপক আকারে হয়নি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, তবু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা-যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে ইরান খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও বেশি মাইন ছড়িয়ে দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল করে দিতে পারে।
হরমুজ - এক চোকপয়েন্টেই বিশ্বের বড় অংশের তেল-গ্যাস
হরমুজ প্রণালি (ইরান ও ওমানের মাঝের জলপথ) পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের Energy Information Administration (EIA)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে-যা বিশ্বে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম তরলের প্রায় ২০%–এর সমান। একই সঙ্গে বৈশ্বিক LNG বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশও এই পথ দিয়ে যায়। তাই এখানে সামান্য বিঘ্নও তেলের দাম, শিপিং ইন্স্যুরেন্স, ফ্রেইট কস্ট ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটে বড় ঢেউ তুলতে পারে।
‘কয়েক ডজন’ মাইন বসানোর খবর-কিন্তু সক্ষমতা বড়
CNN–এর একটি প্রতিবেদনে (ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট জানা দুই সূত্রের বরাতে) বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ইরানের ৮০–৯০% ছোট নৌযান/মাইনলেয়ার সক্ষমতা এখনো অক্ষত থাকতে পারে-ফলে চাইলে দ্রুত “শত শত” মাইন ছড়ানো সম্ভব।
CBS News–ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইরান ছোট নৌযান ব্যবহার করে ২–৩টি করে মাইন বহন ও স্থাপন করতে পারে, আর ইরানের মাইন-মজুদের অতীত অনুমান ২,০০০ থেকে ৬,০০০ পর্যন্ত বলা হয়েছে (এই সংখ্যাগুলো আনুমানিক/পাবলিক এস্টিমেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)।
আইআরজিসি’র ভূমিকা ও ‘ডেথ ভ্যালি’
একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হরমুজ ঘিরে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) এবং দেশটির নৌবাহিনীর যৌথ সক্ষমতা বড়। তাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে মাইন বসানোর প্ল্যাটফর্ম, বিস্ফোরকবাহী নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মতো সক্ষমতা রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা/বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে কিছু প্রতিবেদনে এই রুটকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে “ডেথ ভ্যালি” বলেও বর্ণনা করা হয়েছে-কারণ সংঘাত শুরু হওয়ার পর অনেক বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানি এই পথে যেতে অনাগ্রহী, বীমা খরচও বেড়েছে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
মাইন বসানো নিয়ে রিপোর্ট সামনে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ পোস্ট দিয়ে বলেন, ইরান যদি সত্যিই মাইন বসিয়ে থাকে, তাহলে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত; অন্যথায় “নজিরবিহীন” পরিণতি হতে পারে। একই পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন-মাইন সরিয়ে নেওয়া হলে সেটি “সঠিক পথে বড় পদক্ষেপ” হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ-সেন্টকমের ‘১৬ মাইনলেয়ার’ ধ্বংসের দাবি
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) হরমুজের কাছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী নৌযান লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। পরে সেন্টকম/সংশ্লিষ্ট মার্কিন সূত্রের বরাতে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়-যুক্তরাষ্ট্র ১৬টি মাইনলেয়ার নৌযান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-মাইন বসানো কতটা হয়েছে, কোথায় হয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বাস্তব ঝুঁকি কতটা-এসব বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে পূর্ণ নিশ্চিত তথ্য এখনো সব জায়গায় একরকম নয়। বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুজব/অসম্পূর্ণ তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই অনেক মিডিয়া “সূত্রের বরাতে/ইঙ্গিত” হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে।
নৌ-এসকর্ট কেন কঠিন-রয়টার্সের ব্যাখ্যা
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ সুরক্ষিত রাখা জটিল-কারণ এটি সংকীর্ণ, জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট লেন আছে এবং আশপাশে ইরানের উপকূলীয় অবস্থান/দ্বীপ ও ভূপ্রকৃতি সামরিক কৌশলে সুবিধা দেয়। ইরান প্রচলিত বড় নৌবহর না থাকলেও দ্রুতগামী নৌকা, ড্রোন, মাইন, ক্ষুদ্র সাবমেরিন-এসব দিয়ে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজকে নিয়মিত এসকর্ট দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল এবং বিপুল সম্পদ-নির্ভর।
বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব-তেলদামে দোলাচল
মাইন-আতঙ্ক ও হরমুজ ঝুঁকি সামনে আসার পর বাজারে তেলের দামে বড় ওঠানামার খবর দিয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম। অনিশ্চয়তা বাড়লে তেল সাধারণত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম (risk premium) যুক্ত করে দ্রুত বেড়ে যায়; আবার যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত বা নিরাপদ করিডরের খবর এলে কমেও যেতে পারে। মাইন সংক্রান্ত রিপোর্টগুলোও তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে বলে মার্কেট কভারেজে উল্লেখ করা হয়েছে।