ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানিয়ে যা বলল উত্তর কোরিয়া

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানিয়ে যা বলল উত্তর কোরিয়া
ছবির ক্যাপশান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও মোজতবা খামেনি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের পর উত্তর কোরিয়া প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA)–এর বরাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের জনগণের “অধিকার ও পছন্দকে” সম্মান করে পিয়ংইয়ং-এবং নতুন নেতার নির্বাচনকে তারা সেই স্বীকৃতির অংশ হিসেবেই দেখছে।

“ইরানের অধিকার ও পছন্দ”-কী বলেছে পিয়ংইয়ং

KCNA-তে উদ্ধৃত বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের Assembly of Experts যে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করেছে, সে বিষয়ে তারা “ইরানি জনগণের অধিকার ও পছন্দ”কে সম্মান জানায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে তারা “অবৈধ সামরিক আক্রমণ” হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেছে-এই হামলা আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তার ভিত্তিকে নষ্ট করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া আরও দাবি করেছে-এ ধরনের হামলা একটি দেশের “রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা” ক্ষুণ্ন করে, যা তাদের ভাষায় “গ্রহণযোগ্য নয়” এবং বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হওয়া উচিত।

মোজতবা খামেনি কীভাবে এলেন ক্ষমতার কেন্দ্রে

এই বিবৃতি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরানে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী Assembly of Experts মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করেছে-তিনি নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র।
রয়টার্স একইসঙ্গে লিখেছে, যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়েছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর প্রভাব বড় হয়ে উঠেছে-এমন মূল্যায়নও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনায় আছে।

কেন উত্তর কোরিয়া এই বার্তা দিল-ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উত্তর কোরিয়া–ইরান সম্পর্ক বহুদিন ধরেই পশ্চিমা কূটনীতি ও নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতায় আলোচিত। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরে। তাই ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরপরই পিয়ংইয়ংয়ের এমন অবস্থানকে বিশ্লেষকেরা কৌশলগত সংহতির বার্তা হিসেবেও দেখছেন-বিশেষ করে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তীব্র।

এটা প্রথমবার নয়। চলমান যুদ্ধের শুরু দিকেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে “অবৈধ আগ্রাসন” বলে নিন্দা করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ভাষা হিসেবে “গ্যাংস্টার-সদৃশ আচরণ” জাতীয় শব্দও ব্যবহৃত হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার এক অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান

উত্তর কোরিয়ার বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একদিকে যুদ্ধবিরতি/ডি-এস্কেলেশন আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ-দু’টো ধারাই একসঙ্গে চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের লাইভ কভারেজে দেখা যাচ্ছে, সংঘাতের বিস্তার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, তেল-জ্বালানি রুটসহ বহু ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া আসছে। এই প্রেক্ষাপটে পিয়ংইয়ংয়ের বিবৃতি মূলত দুটি বার্তা একসঙ্গে দেয়-

  • ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনকে বৈধতা দেওয়ার ভাষা (ইরানের “পছন্দকে সম্মান”),
  • যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলকে দায়ী করে যুদ্ধকে “অবৈধ আক্রমণ” হিসেবে চিহ্নিত করা।

সামনে কী ইঙ্গিত দেয় এই বিবৃতি

কূটনৈতিকভাবে উত্তর কোরিয়ার বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে-ইরান ইস্যুতে পিয়ংইয়ং তাদের প্রচলিত অবস্থানই ধরে রাখছে: যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে তুলে ধরা, এবং একই সঙ্গে এমন দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো যারা পশ্চিমা চাপের মুখে রয়েছে। তবে এই সমর্থন বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপে রূপ নেয়-তা এখনই নিশ্চিত নয়; আপাতত এটি একটি রাজনৈতিক/কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ