ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি প্রথম বক্তব্যে যা বললেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি প্রথম বক্তব্যে যা বললেন

এই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। একটি রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তায় মুজবতা খামেনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সেগুলোতে হামলা চালানো হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে দেওয়া লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও একাধিক ইরানি সংবাদমাধ্যম।

বক্তব্যে মোজতবা খামেনি বলেন, আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয় থেকে কখনোই সরে আসব না— বিশেষ করে মিনাবের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ থেকে। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাস করি এবং কেবলমাত্র মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছি। এই পথ আমরা অবশ্যই অব্যাহত রাখব।”  তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে, এবং প্রয়োজনে অন্য ফ্রন্টগুলোও খোলার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তাঁর (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) শাহাদাতের পর তাঁর দেহ মোবারক দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আমি যা দেখেছিলাম, তা ছিল 'দৃঢ়তার এক পর্বত'; এবং আমি শুনেছি যে তার সুস্থ হাতটি শক্তভাবে মুঠিবদ্ধ ছিল।

মোজতবা খামেনি বলেন, যারা তার ব্যক্তিত্বের নানান দিক সম্পর্কে অবগত, তাদের উচিত সেগুলো নিয়ে বিস্তৃতভাবে কথা বলা। আমি এখানে সংক্ষেপে এইটুকুই উল্লেখ করছি এবং বিস্তারিত আলোচনা অন্য উপযুক্ত সময়ের জন্য রেখে দিচ্ছি। এই কারণেই এমন একজন ব্যক্তির পর নেতৃত্বের আসনে বসা কঠিন; এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব কেবল আল্লাহর সাহায্য এবং আপনাদের সমর্থনের মাধ্যমে। আল্লাহকে মনে রাখতে হবে, তাঁর ওপর-ই ভরসা রাখতে হবে, এবং নিখুঁত ও নিঃসন্দেহে তাঁর কাছে দোয়া করতে হবে পবিত্র রুহগুলোর ওসিলায়। এটি সবচেয়ে বড় অমৃত এবং সেই লাল আগুনের কাঠি, যা সমস্ত ধরনের শয়তানি এবং শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের নিশ্চিত বিজয়কে নির্ধারণ করে। এটি একটি মহান নিয়ামত যা আমরা উপভোগ করি এবং আনাদের শত্রুরা তা ভোগ করতে পারে না।”  

“আমি জোর দিয়ে বলছি যে ১৪৪৭ হিজরির (২০২৬ সাল) কুদস দিবসের (ফিলিস্তিনের মুক্তির দাবি নিয়ে আয়োজিত প্রোগ্রাম) সমাবেশে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সকলের কাছে শত্রু পরাজয়ের একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।”  

দেশের জন্য লড়াই করা যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য মোজতবা বলেন, "আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, যারা এমন কঠিন সময়ে, যখন আমাদের জাতি এবং প্রিয় মাতৃভূমি অন্যায়ভাবে অহঙ্কার জোটের নেতাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, তা শক্তভাবে প্রতিহত করছেন।আমি প্রতিরোধ ফ্রন্টের যোদ্ধাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমরা প্রতিরোধ ফ্রন্টের দেশগুলিকে আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু  মনে করি, এবং প্রতিরোধের এই উদ্দেশ্য ও রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ইসলামী বিপ্লবের মূল্যবোধের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।”  

প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিশোধ শুধুমাত্র বিপ্লবের মহান নেতার শাহাদাতের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতির প্রতিটি সদস্য, যাকে শত্রুরা শহীদ করেছে, তারাও আমাদের প্রতিশোধের বিষয়। অবশ্য, এ পর্যন্ত এই প্রতিশোধের 'সীমিত' অংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, তবে যতক্ষণ তা সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি, এই বিষয়টি অন্যান্য বিষয়ের উপরে থাকবে। বিশেষত, আমরা আমাদের সন্তানদের রক্তের প্রতি আরও সংবেদনশীল থাকব।”  “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর মহৎ ইমাম (মাহদি (আ.)এর পুনরাবির্ভাব দ্রুত ঘটান।” মুজতবা খামেনির প্রথম বক্তব্য ছিল খুবই কঠোর ও যুদ্ধমুখী। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে এবং ইরানের প্রতিশোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ