{{ news.section.title }}
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ চীনের জন্য কেন সহায়ক
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি নৌবহর-একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজসহ-স্থানান্তর করে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বাড়ায়, পেন্টাগন এশিয়া থেকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে এনে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে-এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা থাড (THAAD) ব্যবস্থাও রয়েছে, যা এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শুধু সেখানেই ছিল।
এই ব্যবস্থাটি মূলত উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষা দিতে মোতায়েন ছিল-এ কারণে প্রথমবারের মতো সিউলের কাছ থেকে এমন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আঞ্চলিকভাবে বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
থাড সরানো নিয়ে সিউলের অবস্থান -
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন-তার সরকার এই ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা স্থানান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, তবে পরিস্থিতিকে তিনি “বাস্তবতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, লি বলেন-সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা পুরোপুরি নিজেদের অবস্থান কার্যকর করতে পারছে না; তবু কোরীয় উপদ্বীপে প্রতিরোধ সক্ষমতা “গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত” হচ্ছে না-এমন বার্তাও দেওয়া হয়।
মাত্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধ-যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিশ্রুতি’ ও ‘প্রভাব’ নিয়ে নতুন চাপ -
বিশ্লেষকদের মতে, দুই সপ্তাহের ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-প্রতিশ্রুতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়-এশিয়ায়ও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়াতে পারে। কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা ও মহড়া বাড়ছে-এমন প্রেক্ষাপটে এশিয়ার মিত্ররা প্রতিরক্ষা সম্পদের ঘাটতি আরও বেশি অনুভব করতে পারে।
‘ইন্দো-প্যাসিফিকে প্রতিশ্রুতি অটুট’-কিন্তু সন্দেহ কেন বাড়ছে -
গত বছর সিঙ্গাপুরে এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই…’। তবে এখন দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উত্তর কোরিয়া সীমান্তবর্তী মিত্রদেশ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অনেকের কাছে সেই বার্তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে-বিশেষ করে যখন যুদ্ধক্ষেত্র বদলালে সম্পদও দ্রুত এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সরে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ আছে। যেমন, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যালি রেটনার বলেছেন, কোরিয়া থেকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সরিয়ে নেওয়া এমন সময়ে “ভয়াবহ সংকেত”-যখন সিউলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়েই আগে থেকে দুশ্চিন্তা রয়েছে।
তেল-নিরাপত্তা একসঙ্গে কাঁপছে: হরমুজের ঝুঁকি, এশিয়ার অর্থনীতির দোলাচল -
এই যুদ্ধের আরেক বড় প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে-বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে। কারণ, এশিয়ার অর্থনীতির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজার অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে চীন আঞ্চলিকভাবে নিজের প্রভাব বাড়াতে পারে-বিশেষ করে যখন কিছু দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প অংশীদার খোঁজার চাপ তৈরি হয়।
দক্ষিণ চীন সাগর: চীনের ‘শান্ত থাকা’ কি স্থায়ী? -
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বিভক্ত হলে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌতৎপরতা আরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে-এমন কথাও আলোচনায় আছে। ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে পারাসেলস অঞ্চলে তৎপরতা/নজরদারি কাঠামো ঘিরে আলোচনা আছে-যা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।
‘দুঃস্বপ্ন’-জাপানের উদ্বেগ: জ্বালানি, সীমান্ত বিরোধ, যুদ্ধের ধাক্কা -
জাপানের জন্য হরমুজ প্রণালি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ-কারণ দেশটির জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথনির্ভর। যুদ্ধের কারণে যদি পরিবহন ঝুঁকি বাড়ে বা সরবরাহে বাধা তৈরি হয়, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা-দুই দিকেই চাপ বাড়তে পারে। টোকিওর সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো সুনেও ওয়াতানাবে বলেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণভাবে দুঃস্বপ্ন… ট্রাম্পের অধীনে যেকোনো পরিস্থিতিই হতে পারে…’।
অস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন: যুদ্ধ মেশিনের সীমা নিয়ে নতুন হিসাব -
ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে-উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং রাজনীতিতেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে-বিশেষত প্যাট্রিয়ট/থাডের মতো ইন্টারসেপ্টর দ্রুত ব্যবহৃত হলে মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে-ওয়াশিংটনের কাছ থেকে দ্রুত বড় পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ পাওয়া সবসময় সহজ নয়। উদাহরণ হিসেবে জাপানের অডিট/অনুসন্ধানে বহু বছরের ডেলিভারি-জটের কথা উঠে এসেছে-যা অস্ত্র সরবরাহ-শৃঙ্খলের চাপকে সামনে আনে।
পেন্টাগনের নীরবতা -
এসব প্রসঙ্গে পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নির্দিষ্ট সক্ষমতা স্থানান্তর বা অপারেশনাল বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে-এমন তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।