ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৬ মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ

ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৬ মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ
ছবির ক্যাপশান, ইরাকে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৬ মার্কিন সেনা। ছবি: সংগৃহীত

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগন নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ইরাকের পশ্চিম আকাশসীমায় সংঘটিত হয় এবং এতে একটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ছয়জন ক্রু সদস্য হলেন-

  • জন “অ্যালেক্স” ক্লিনার (৩৩), আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা
  • আরিয়ানা সাভিনো (৩১), ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কোভিংটন থেকে
  • অ্যাশলি প্রুইট (৩৪), কেন্টাকির বার্ডসটাউন
  • সেথ কোভাল (৩৮), ইন্ডিয়ানার মুরসভিল
  • কার্টিস অ্যাংস্ট (৩০), ওহাইওর উইলমিংটন
  • টাইলার সিমন্স (২৮), ওহাইওর কলম্বাস

পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মার্কিন বিমানবাহিনীর নিয়মিত ইউনিটের এবং বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ন্যাশনাল গার্ড–এর সদস্য ছিলেন।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল একটি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার, যা আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। ঘটনাটি ঘটে যখন দুটি একই ধরনের ট্যাংকার বিমান আকাশে মিশন পরিচালনা করছিল।

মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ওই সময় একটি আকাশপথে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং অন্য বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি ‘বন্ধুসুলভ আকাশসীমায়’ ঘটেছে এবং এটি শত্রুপক্ষের গুলি বা মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার ফল নয়। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

ইরান সংকটে নতুন মোড়

এই দুর্ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে। চলতি সংঘাত শুরুর পর বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনার পর ইরান-সম্পর্কিত সামরিক অভিযানে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

ভিন্ন দাবি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর

এদিকে ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ইরাকে ইসলামিক প্রতিরোধ দাবি করেছে, তারা এই বিমানটি ভূপাতিত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে-ঘটনাটি দুর্ঘটনা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিমান

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেসি-১৩৫ ধরনের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব বিমান আকাশে যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে, ফলে যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে এবং দূরবর্তী অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম হয়। এই বিমানগুলো প্রায় ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


সম্পর্কিত নিউজ