{{ news.section.title }}
কুয়েত ও আমিরাতে ইরানের ড্রোন হামলা
কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কুয়েতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রাডার সিস্টেমে ড্রোন আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একাধিক “শত্রু ড্রোন” দেশটির আকাশসীমায় ঢোকার চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে ইউএই জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে চলমান হামলাগুলোর ফলে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছে; পাশাপাশি তারা হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে।
কুয়েতের অবস্থান
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ড্রোন আঘাত হানে - যাতে বিমানবন্দরের একটি রাডার ব্যবস্থায় ক্ষতি হয়। একই বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় আরও ১৪টি “শত্রু ড্রোন” প্রবেশ করেছিল/করার চেষ্টা করেছিল; এর মধ্যে আটটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বাকিগুলো বিভিন্নভাবে নিষ্ক্রিয়/বিপদমুক্ত করা হয়েছে।
কুয়েতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে - কারণ দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার অন্যতম হোস্ট দেশ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে কুয়েতের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন আঘাতের ঝুঁকি ও কিছু হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে।
ইউএই অবস্থান
ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, অঞ্চলজুড়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একাধিক দেশের নাগরিক থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউএইর বিবরণ অনুযায়ী এসব হামলায় ইরান ২৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৬০৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে - যা তারা একটি সামগ্রিক হিসাব হিসেবে তুলে ধরেছে।
ইউএইতে সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব শুধু সামরিক নয় - বেসামরিক অবকাঠামোও চাপের মুখে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন হামলার ঘটনায় আগুন লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, কিছু সময়ের জন্য ফ্লাইটও স্থগিত/বিঘ্নিত হয় - যদিও ওই ঘটনায় হতাহতের কথা জানানো হয়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বড় ঝুঁকিতে
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই উপসাগরীয় দেশগুলো “মধ্যবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র” হয়ে পড়ছে কারণ এই দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, লজিস্টিক সুবিধা ও আকাশ-সমুদ্রভিত্তিক সামরিক কাঠামো রয়েছে। আল জাজিরার একটি ম্যাপিং প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সেনা উপস্থিতির বিস্তার তুলে ধরা হয়েছে যেখানে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে বড় হাব হিসেবে দেখানো হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানও বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যদি হস্তক্ষেপ বাড়ায় বা হামলা চালায়, তাহলে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলো প্রতিশোধের মুখে পড়তে পারে। এপি’র এক প্রতিবেদনে ইউএইর অবকাঠামো নিয়ে ইরানের হুমকি এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর একাধিক ধাপের অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে এবং ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে - ইসরায়েলসহ ইরাক, ইউএই ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এ ধরনের দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কিছু আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমও “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪”–এর নতুন ধাপের কথা রিপোর্ট করেছে।
তবে এসব দাবির অনেকগুলোই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে আসতে পারে এ কারণে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সাধারণত প্রতিটি নির্দিষ্ট টার্গেটিং ক্লেইমকে আলাদা করে ভেরিফাই করার চেষ্টা করে বা “দাবি” হিসেবেই উল্লেখ করে।
ভবিষ্যতে কি ঘটতে চলেছে?
বর্তমান ধারা বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় উদ্বেগ তিন জায়গায় - (১) বিমানবন্দর/বন্দর/শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা, (২) আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ইন্টারসেপশন, (৩) সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের স্থিতিশীলতা। দুবাইয়ের মতো এভিয়েশন হাবে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে - যা ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।