{{ news.section.title }}
ইরান-ঈসরায়েল- আমেরিকা যুদ্ধের নতুন সমীকরণ
ইরানের সাথে যুদ্ধটা ট্রাম্প তার মিত্রদের কাউকে না জানিয়ে শুরু করেছে, কিন্তু যখন হরমুজের চিপায় আটকে গেছে তখন তার মিত্রদের অনুরোধ করছে তারা যেন যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালী ওপেন করে তেল আর গ্যাসবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদে চলাচলের পথ খুলতে আমেরিকাকে সাহায্য করে।
এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এবং গ্যাস যায়, আর ইরান এটাকে বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে যখন হরমুজে তেল-গ্যাসবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলে সমস্যা হয়েছে, তখন ট্রাম্প তার মিত্রদের অনুরোধ করছেন যেন তারা যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে প্রণালী খোলা রাখতে সাহায্য করে। ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশকে এই অনুরোধ করেছেন, কিন্তু এখনো কোনো দেশ স্পষ্টভাবে পুরোপুরি রাজি হয়নি। চীন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধ করার উপর জোর দিয়েছে। ফ্রান্স প্রথমে না বললেও পরে কিছু সাহায্যের ইঙ্গিত দিয়েছে। জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া বলেছে, এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তারা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবে। যুক্তরাজ্য সতর্কতার সাথে আলোচনা করছে কিন্তু প্রথমে না বলেছে। দক্ষিণ কোরিয়া পর্যালোচনা করবে বলেছে কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইতালি এবং জার্মানিও প্রত্যাখ্যান করেছে। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো এই যুদ্ধে জড়াতে চায়না, তাদের মধ্যপ্রাচ্যের তেল দরকার, তাই তারা ট্রাম্পের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় ইরানের কৌশলগত হিসাব সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
ইরান বলেছে, যদি তার তেলের অবকাঠামোতে কোনো আক্রমণ হয়, তাহলে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। আমেরিকা ইরানের এই হুমকিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে, যে কারণে খার্গ দ্বীপে আমেরিকা হামলা করলেও তেলের স্থাপনায় আঘাত করেনি। এতে ইরানের তেল-নির্ভর যুদ্ধ কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইরান প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তার শত্রু রাষ্ট্রগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এখন ইরান যতক্ষণ না যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে, ততক্ষণ তার আক্রমণ চলবে এবং হরমুজ খুলবে না। যুদ্ধ শুরুতে আমেরিকা টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে, কিন্তু এখন ইরান হরমুজ এবং তেল-কৌশল দিয়ে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করছে। তবু আমেরিকা এবং ইসরায়েল ইরানে প্রায় ৫,৫০০-এর বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতেও চালাবে। এই যুদ্ধটা মূলত কে কতটা ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে পারবে তার উপর নির্ভর করছে। ইরানের জন্য এটা অস্তিত্বের লড়াই, তাই তাদের ধৈর্য এবং সহনশীলতা উল্লেখযোগ্য।
ইতিহাসে পারস্য সাম্রাজ্য রোমান সাম্রাজ্যের সাথে প্রায় ৬৮১ বছর যুদ্ধ করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ যুদ্ধ। আর ইসরায়েলের সাথে তাদের এটা দ্বিতীয় যুদ্ধের কেবল দুই সপ্তাহ পার হলো। অতীতে, পারস্যানরা রোমান আধিপত্য মেনে নেয়নি এবং হারলেও ফিরে যুদ্ধ করে নিজেদের ভূমি ফিরিয়ে নিয়েছে। ইরান সেই সভ্যতার উত্তরসূরি, যেখানে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এসে পারস্যান সংস্কৃতি গ্রহণ করেছিলেন এবং হুলাগু খান পারস্যান সভ্যতায় মিশে গিয়েছিল, যার গ্রেট গ্র্যান্ডসান পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো।
এবার আসি নেতানিয়াহুর প্রশ্নে। তিনি বেঁচে আছে কি মোরে গেছে তা নিয়ে আমি চিন্তিত না। তার কিছু একটা হয়েছে, খুব বেশি হলে নিহত, অথবা সিরিয়াসলি আহত। তাঁকে নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নাই, কারন তারপরে যে আসবে বলে ধরা হচ্ছে, নাফতালি ব্যানেট সে আরও খারাপ। সে ইরান হজম করার আগেই তুরস্ক আক্রমণের জন্য রেডি হচ্ছে। অতএব, নেতানিয়াহুর বেচে থাকলে যেই ক্ষতি, মরলেও সেই ক্ষতি। এরা যুদ্ধ করেই আনন্দ পায়, মানুষ মেরে শান্তি পায়। এই মুহূর্তে ইসরায়েলের ৯০% মানুষ ইরানের যুদ্ধকে সমর্থন করে। তারা মনে করে নিজেদের রাষ্ট্র বাঁচাতে হলে আশেপাশের সবাইকে ডমিনেট করতে হবে। অতএব, নেতানিয়াহু মরলেও যা, বাঁচলেও তা। লিখেছেন: গবেষক ও বিশ্লেষক সাবিনা ইসলাম