{{ news.section.title }}
বিশ্বের মুসলিমদের উদ্দেশ্যে যা বলল ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলি লারিজানি পুরো বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ভাষণ দিয়েছেন। ৩ সপ্তাহধরে চলা ইরানের উপর মার্কিন ও দখলদার ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে এই ভাষণ দেন তিনি। ভাষণের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো,
আলি লারিজানি: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
হে বিশ্বের মুসলিমগণ এবং ইসলামী দেশসমূহের সরকারসমূহ:
১. যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়ে ইরান এক প্রতারণামূলক আমেরিকান-জায়োনিস্ট আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে ভেঙে ফেলা। তারা ইসলামী বিপ্লবের এক মহান নেতা, বহু সাধারণ মানুষ এবং সামরিক কমান্ডারকে শহীদ করেছে। কিন্তু এর জবাবে ইরানের জনগণ জাতীয় ও ইসলামী প্রতিরোধের শক্তি দিয়ে তাদের মোকাবিলা করেছে।
২. আপনারা জানেন খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে, তাও কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে ছাড়া কোনো ইসলামী সরকার ইরানি জাতির পাশে দাঁড়ায়নি। তবুও ইরানের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এই দুষ্ট শত্রুকে প্রতিহত করেছে। আজ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শত্রুরা নিজেরাই বুঝতে পারছে না এই কৌশলগত অচলাবস্থা থেকে তারা কীভাবে বের হবে।
৩. ইরান বড় ও ছোট শয়তান (আমেরিকা ও ইসরাইল)-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথেই অটল থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামী সরকারগুলোর আচরণ কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই বাণীর পরিপন্থী নয়? যেখানে রসূল (স.) বলেছেন: “যদি কোনো মুসলিমের আর্তনাদে সাড়া না দাও, তবে তুমি মুসলিম নও।” তাহলে তোমাদের এটি কেমন ইসলাম ?
৪. কিছু দেশ তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছে ইরান যেহেতু তাদের দেশে থাকা আমেরিকান ঘাঁটি এবং আমেরিকান-ইসরাইলি স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাই ইরান নাকি তাদের শত্রু! তাহলে কি ইরান নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবে, যখন আপনার দেশের আমেরিকান ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ চালানো হবে? এসব কেবল অজুহাত। আজকের এই লড়াইয়ে এক পাশে আছে আমেরিকা ও ইসরাইল, আর অন্য পাশে আছে মুসলিম ইরান এবং প্রতিরোধের শক্তিগুলো। আপনারা কোন পাশে আছেন?
৫. ইসলামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করুন। আপনারা জানেন আমেরিকা কখনোই আপনাদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে না, আর ইসরাইল আপনাদের শত্রু। একটু থেমে নিজেদের কথা এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। ইরান আপনাদের কল্যাণই কামনা করে এবং আপনাদের ওপর আধিপত্য কায়েম করার কোনো ইচ্ছা রাখে না।
৬. সমগ্র শক্তি নিয়ে ইসলামী উম্মাহর ঐক্যই সব দেশের জন্য নিরাপত্তা, অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। ভাষণ শেষে আলি লারিজানি বলেন আমি তো ল আল্লাহর বান্দা, আপনাদের কাছে সালাম জানাই ইরান ও মুসলিম উম্মাহ দীর্ঘজীবি হোক জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
আলি লারিজানির এই বক্তব্যর পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য দেন, সেখানে তিনি জানান, ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য আমরা কাজ করছি, এই সপ্তাহের মধ্যে না হলেও খুব শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হবে! সেই সাথে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানান তাদের এই সংকটকালীন সময়ে তাদের পাশে দাড়াতে, যদিও এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ টির মতো দেশ ট্রাম্পের পাশে দাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে