{{ news.section.title }}
লিডারশীপ শেষ হলে কি ইরান শেষ হয়ে যাবে ?
যদি হঠাৎ করে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংকট তৈরি হয়, তাহলে কিছু সময়ের জন্য অস্থিরতা, ক্ষমতার লড়াই বা নীতিগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ইরানের মতো জটিল রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, যেখানে ধর্মীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বেশি, সেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে কিন্তু সেটি দেশের “শেষ” হয়ে যাওয়া নয়।
ছবিটা দেখার পর I felt a murderous aura. এটা কেন হয়েছিল জানিনা। অন্তত যুক্তির কোন কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না। আমার কাছে মনে হচ্ছিল ডেড ম্যান ওয়াকিং। আশা করছিলাম যে অন্তত মোসাদ অবজারভারভেশন রাডার থেকে আবার আড়ালে যেতে পারে। হয়নি সেটা। দেশের অধিকাংশ মানু্ষ হয়ত সঠিক। আমি ভুল। অথবা সবাই যা শুনতে চায় আমি সেটা বলতে পারিনা। তুষ্ট করতে পারিনা।
সে শহীদ কি শহীদ না এটা পরের আলোচনা। যুদ্ধাবস্থায় তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন তার প্রধান কাজ। যদি শহীদ হওয়া উদ্দেশ্য থাকে তাহলে অথবা টপ লিডারদের দায়িত্বে থাকা উচিত না। যুদ্ধ করে মানুষ জয়ের জন্য। জয়ের উদ্দেশ্য অর্জনে শহীদ হয়। কমান্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুদ্ধের প্রধান কৌশলের ভেতর পড়ে। ইরান এখন পর্যন্ত ম্যাটারিয়াল ড্যামেজ করতে পেরেছে যথেষ্ট। কিন্তু ইজ-রায়েলের লিডারশীপকে টাচ করতে পেরেছে বা হতাহত হয়েছে এমন খুব কম বা নেই। একটি লেখায় বলেছিলাম, শত্রুর ভাষা বোঝা জরুরি। ম্যাটেরিয়াল ড্যামেজ ওরা রিপেয়ার করবে কিন্তু হিউম্যান কস্ট রিপ্লেসেবল না।
যুদ্ধ শুরুর আগের একটি লেখা বলেছিলাম, শুধুমাত্র এস-৪০০ বা YLC রাডার আধুনিক যুগে ইউএস ইনভেশন প্রটেক্ট করার জন্য যথেষ্ট না। ইউএস যেই ফোর্সে এটাক করেছে ইরানের স্থানে বিশ্বের যেকোন দেশ এটার সম্মুখীন হলেও তারা পারত না। ফার্স্ট ওয়েভে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল টপ লিডারশীপ কে নিরাপদ রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এসেট ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ফার্স ওয়েভেই শেষ হয়ে যায়। ১২ দিনের যুদ্ধের মত এবারো ফার্স্ট ওয়েভে খামেনি সহ সামরিক লিডারশিপ এর ৪২ জন শেষ হয়ে যায়। ১২ দিনে যুদ্ধের থেকে শিক্ষা হল একই স্থানে ইনটেন্স সময়ে লিডারশীপকে একই স্থানে একত্র না হওয়া। এই ভুল তারা রিপিট করল কেন বুঝে আসেনা। ফার্স্ট ওয়েভ এটাক ব্যার্থ হলে এই মুহুর্তে ইজ-রায়েল দৌড়ের উপর থাকা লাগত।
আপনাদের মনে আছে কিনা, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হবার আগেই হিজ-বুল্লার সাথে যখন ইজ-রায়েল সিজফায়ার করে তখনো বলেছিলাম, শত্রুকে চিনতে হবে। ইরানের সাথে সংঘাত অনিবার্য। হিজ-বুল্লার ৩ টায়ারের সকল লিডারশীপ ইজ-রায়েল এলিমিনেট করে। ইরানের ক্ষেত্রেও একই কাজ করবে। এটাই ওদের মেথড। অপারেশন ট্রু প্রমিজ -১ এর পর যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলি দূর্ঘটনায় নিহত হন, তখন প্রশ্ন তুলেছিলাম এটা ইরান ডাউনপ্লে করলেও যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে ইজ-রায়েল জড়িত এবং রাইসি হত্যার শিকার।
লিডারশীপ শেষ হলে কি ইরান শেষ হয়ে যাবে। উত্তর হল, যতক্ষণ ইরানে জনমত পক্ষে থাকবে ততক্ষণ ইরান শেষ হবেনা। বিষয়টা ইজি না। এক্ষেত্রে আপনারা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টানতে পারেন। রাশিয়ার জন্য ইউক্রেন দখল করা সহজ হয়নি। রাশিয়া হাজার হাজার মিসাইল ছুড়েছে। প্রতিটি ড্রোন ওয়েভে ৩০০-৭০০ ড্রোন ছুড়েছে। তথাপি বিষয়টা সহজ হয়নি। তবে রাশিয়া যদি ইউক্রেনের লিডারশিপ এলিমিনেট করত, আমার সন্দেহ আছে ইউক্রেন টিকত কিনা। এটা কোন যুদ্ধের নর্মের মধ্যে পড়েনা। এটা কাপুরুষের কাজ। সমস্যা হল, ইজ-রায়েল ইউএস কাপুরুষ হলেও বিশ্ব বীরপুরুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিবে।
ট্রু প্রমিজ ২ ও ৩ এর পর ইজ-রায়েল বার বার বলতে থাকে খামেনি মারা গেছেন। তখন লেখায় বলেছিলাম, ন্যারেটিভের যুদ্ধে বিশ্ব মিডিয়া দিন গণনা শুরু করবে কতদিন খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। এভাবে সম্ভবত দীর্ঘ সময় তিনি জনসম্মুখে আসেন নি। মিডিয়ার মাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হল, ইরানিদের প্রাইডে আঘাত করা এবং মোসাদের জন্য কাজ সহজ করা। মোসাদ যদি খামেনির ট্রেস হারিয়ে ফেলে তখন ন্যারেটিভ সৃষ্টি করে পাবলিক এপিয়ারেন্সের ফাঁদ পাতা। পাবলিক এপিয়ারেন্স এর অর্থ হল পুনরায় মোসাদের রাডারে চলে আসা। যার পরিনতি আমরা দেখেছি।
যুদ্ধ আবেগের বিষয় না। খালেদ বিন ওয়ালিদ রা: এর উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম, তার জয়ের পেছনে ছিল দুর্দান্ত স্ট্রাটেজি ও তার এক্সিকিউশন। কৌশল ব্যতীত যদি তিনি এমন ভাবতেন যে, সরাসরি যুদ্ধ করব আর শহীদ হলে হব, এমন দায়ীত্বহীন আচরণ সাহাবীরা করেন নি। যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জন জরুরি। অকাতরে জীবন দেয়া নয়। গাজী হওয়ার ফজিলত কম নয়। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রাণ গেলে সে আসলেই মহিমান্বিত। স্ট্রাটেজিক বিষয়ে যদি মনে হয়, ইরানি জাতি শহীর হওয়া উদ্দেশ্যে যুদ্ধে গেছে তবে মিসাইল বানানোর কোন মানে নেই। সরাসরি বুক পেতে দিয়ে শহীদ হলেই হয়। ওমর রা: খালেদ বিন ওয়ালিদ রা: কে কেন কমান্ড থেকে সরিয়ে দিয়েছিল সেটাও বলেছি। কারো উপর অন্ধ বিশ্বাস চলে আসা যে তিনি থাকলে জয় নিশ্চিত যুদ্ধে এটা চলেনা। যুদ্ধে এসব আবেগ থেকে উর্ধে থাকতে হয়। প্রশ্ন হল কেন থাকতে হয়?
কারন খুব সিম্পল। কমান্ডারের ব্যর্থতা দেশের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সার্বিক মৃত্যু ও ক্ষতির পরিমান বাড়াতে পারে।ইরান টিকে থাকবে। তবে পেইনফুল লসের ভেতর দিয়ে যেতে হবে যার জন্য ফার্স্ট ওয়েভ সামলানোর ব্যর্থতাকে দায় না দিলে হবেনা। ইরানের অন্তত হরমুজ আটকে রাখার সক্ষমতা হারানো যাবেনা। কিছু ওক্স ফ্যাক্টর রয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য মতে ইরানের হাতে ৩-৪ হাজার মিসাইল থাকার করা। ইরান প্রায় ১৩০০ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। অনেক গুলি মিসাইল সিটি ও লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে। যেহেতু আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি তাই ঠিক কত পরিমানে মিসাইল ধ্বংস হয়েছে সেটা বলা মুসকিল।
তবে এই অবস্থায় ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি টিকে থাকা জরুরি। এটা টিকে থাকলে ইরান এই লড়াই অনেক্ দিন পর্যন্ত টানতে পারবে। ইজ-রায়েল বা আমেরিকার জন্য সময় এখন খুবি গুরুত্বপূর্ণ। তারা এটা বেশিদিন টেনে নিতে পারবেনা। পলিটিক্যাল চাপ বাড়তে থাকবে। ইকোনমিক চাপ ও। তারা দ্রুত সফলতা চাইতে পারে। তবে যুদ্ধের যে অবস্থা তাতে একটা ব্রড এম্বিগুইটি সৃষ্টি হয়েছে।
১. যদি রেজিম চেঞ্জ করতে ব্যর্থ হয় তবে ইজ-রায়েল ও ইউএস এর মিশন ব্যর্থ। কারন সিজফায়ার এর পর চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় ইরান কয়েক বছরের মধ্যেই শক্তি সঞ্চার করে ফেলবে। তাতে যেই লাউ সেই কদু সিচুয়েশন। আর এক্ষেত্রে ইরান নিউক তৈরি করবে বলেই বিশ্বাস করি। যেটা আরো বড় ঝুকি সৃষ্টি করবে।
২. রেজিম চেঞ্জ করতে সফল হলে মিশন সফল। সেক্ষেত্রে অনুগত সরকার ক্ষমতায় থাকবে। ইরান ইকোনমির দিক থেকে এগোবে। কিন্থ সামরিক সেট আপ ধ্বংস হবে। কিন্তু এই গোল এচিভ করা বর্তমান বাস্তবতায় যথেষ্ট কঠিন কাজ।
অবস্থা এমন যে মিশন সফল না করলে ইজ-রায়েলের জন্য অস্ত্বিত্বের ঝুকি আরো বেশি প্রবলতর হবে। হুট করে যুদ্ধ বন্ধ করার বিরুদ্ধে থাকার কথা ইজ-রায়েলের শুধুমাত্র এই কারনে। ট্রাম্পের জন্য এটা একটা ফাঁদে পরিনত হয়েছে। সফলতা না নিয়ে ফেরত আসার অর্থ ইজ-রায়েলকে আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দেয়া। সামনের দিন গুলিতে স্টাটাস কুয়ো ভাঙ্গার চেষ্টা প্রবল হবে বলে মনে করি।
আমার প্রতিটি লেখা আমার নিজস্ব মত। আপনাদের ভালো না লাগলে আনফলো করে চলে যাবেন। এতদিনে আমার বার বার একই ফিলিংস হয়েছে যে, তুস্টিকর লেখার জন্য অভিমত পরিবর্তন আমার পক্ষে কঠিন। ইরানের সফলতা চাই। তবে আবেগ দিয়ে ক্যারিয়ার ধ্বংস করে ইরানকে জিতিয়ে দেয়ার খরব প্রচার করে নয়। ক্রিটিকাল বিষয়গুলি বিবেচনার দাবি রাখে। যুদ্ধ কৌশলের। এখানে বীরত্ব হল প্রতিপক্ষকে সফল হতে না দেয়া, এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়া।
লিখেছেন: ওয়াসি মাহিন, গবেষক ও বিশ্লেষক