গে সৈন্যদের পুর্ণবহাল করল ইসরায়েল!

গে সৈন্যদের পুর্ণবহাল করল ইসরায়েল!
ছবির ক্যাপশান, গে সৈন্য

গাজা গণহত্যার সময় অনেক ফিলিস্তিনের যুদ্ধবন্দী হিসেবে ইসরায়েল সেনারা ধরে নিয়ে এসেছিল। তাদের বিভিন্ন বন্দী শিবিরে আটকে যৌন নির্যাতন করা হতো। বিশেষত ইসরায়েল বাহিনীর অনেক সেনা যারা গে (সমকামি) ছিল, তারা পুরুষ ফিলিস্তিনের জোর করে রেইপ করা সহ আরও অকথ্য যৌ নির্যাতন করত। এ বিষয়টা যখন ফাঁস হয়, তখন সমালোচনার মুখে জড়িত ফোর্স-১০০ গ্রুপের অনেক সেনা সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। সেই রেপিস্ট গে সেনাদের আজ ক্ষমা করে দিয়ে সেনাবাহিনীতে পুনর্বহাল করেছে দখলদার ইসরায়েল বাহিনী।

রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা যুদ্ধের সময় অনেক ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজন সেনার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, গাজা থেকে আটক একাধিক ব্যক্তিকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের স্দে তেইমান নামের একটি সামরিক আটক কেন্দ্রে নির্যাতন করা হয়েছিল। 

এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে এবং তদন্ত শুরু হয়। ইসরায়েলের সামরিক প্রসিকিউটররা শুরুতে ওই সৈন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী নয় অথবা আদালতে তা টেকসই হবে না। এই সিদ্ধান্ত দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি করে। অনেকেই মনে করেন, যুদ্ধের সময় সেনাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত নয়। আবার অন্য পক্ষ বলছে, যুদ্ধ হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, দেশের উচিত শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়া, নিজের সৈন্যদের বিচার করা নয়। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়াবে। এই ঘটনাটি বৃহত্তর গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। এসব আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আগে থেকেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা ইসরায়েলের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর আচরণের সীমা কোথায় হওয়া উচিত এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।


সম্পর্কিত নিউজ