তেলের দাম বৃদ্ধি , ইরানের দৈনিক বাড়তি আয় ১৮০০ কোটি টাকা

তেলের দাম বৃদ্ধি , ইরানের দৈনিক বাড়তি আয় ১৮০০ কোটি টাকা
ছবির ক্যাপশান, ইরান

তেলের দামে উত্থান: ইরানের দৈনিক আয় ১৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। চলমান সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে ওঠায় ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করছে বলে জানিয়েছে ফাইনান্সিয়াল টাইমস। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথগুলোতে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ইরান দৈনিক প্রায় ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে থাকে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে অবস্থান করায় মোট আয় সহজেই ১২০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। সেই হিসাবে ১৪০ মিলিয়ন ডলার দৈনিক আয় একটি বাস্তবসম্মত গড় হিসাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই আয় সরাসরি নেট মুনাফা নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানকে প্রায়ই ছাড়মূল্যে তেল বিক্রি করতে হয় এবং সব লেনদেন আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে সম্পন্ন হয় না। ফলে প্রকৃত আয় কিছুটা কম হতে পারে।

অন্যদিকে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক দ্রব্যমূল্যের ওপর।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর অন্তত ১৩টি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ থেকে তেল লোড করেছে। এ সময় প্রায় ২৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়েছে।
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে, যার বেশিরভাগই চীনে যাচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ