{{ news.section.title }}
ইরান কিভাবে F-35 যুদ্ধবিমান হিট করলো?
ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-35 যুদ্ধবিমান Surface to air missile এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমান ঘাটিতে জরুরী অবতরণ করেছে। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানের এটিই প্রথম হিট। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন ইরান অনেক Sophisticated SAM System তৈরি করেছে এবং সেই System দিয়ে F-35 যুদ্ধবিমান ডিটেক্ট করে মিসাইল ছুড়েছে।
গভীর ভাবে চিন্তা না করলে আসলেই অনেক বড় কিছু। যেখানে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের অন্যতম গুন হচ্ছে stealth অর্থাত অদৃশ্য। যেখানে এই Stealth যুদ্ধবিমান রাডারে ধরা পরার কথা না। সেখানে এটি ডিটেক্ট করে লক করে মিসাইল ছুড়ে আঘাত হানা হলো কিভাবে। প্রথমত stealth মানেই অদৃশ্য নয়। stealth মানে এটার radar cross section significantly low. অর্থাত সাধারণ যুদ্ধবিমান যদি 200 কিমি দূর থেকে রাডারে ধরা পড়ে। এই F-35 যুদ্ধবিমান রাডারে ধরা পড়বে -30 কিমি এ। শুধুমাত্র বুঝানোর জন্য বললাম।
আরো অনেক হিসাব আছে। এটার Radar absorbing capability, jamming capability ও এই সিস্টেমের মধ্যে একসাথে কাজ করে। অর্থাত আপনার কাছে শক্তিশালী রাডার সিস্টেম থাকলে আপনি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ডিটেক্ট করতে পারবেন। যতো শক্তিশালী রাডার ততো দূর থেকে ডিটেক্ট ও লক করতে পারবেন।
এখন প্রশ্ন হলো ইরান কি এমন কিছু ব্যবহার করেছে? না। এখানে যা হয়েছে সেটা হলো overconfidence এর ফল। মার্কিন এই যুদ্ধবিমান overconfident ছিল যে ইরানের কোনো SAM System একটিভ নাই। সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই এই যুদ্ধবিমান খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল। এর ফলে এটি ইরানের Electro optical based System এর কাছে ধরা খেয়েছে। Infrared (IR) based এই সিস্টেম তার লক্ষ্যবস্তু রাডার ওয়েভ এর মাধ্যমে ডিটেক্ট করেনা। বরং টার্গেটের Heat signature detect করে। তাই 8000-15000 ফিট উঁচুতে উড়তে থাকা কোনো যুদ্ধবিমান IR signature এর মাধ্যমেই ডিটেক্ট করে IR based SAM দিয়ে আঘাত করা যেতেই পারে।
ইরান যে সিস্টেমটি ব্যবহার করেছে ভিডিও চিত্র অনুযায়ী সেই সম্ভবত AD-08 MAJID. এটি 6KM Altitude এ সর্বোচ্চ 8km range এ আঘাত হানতে পারে। আপনি যদি 5th generation এর যুদ্ধবিমান খুব নিচু দিয়ে ফ্লাই করেন তাহলে MANPAD দিয়েও মারা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান এই সিস্টেমটি খুব সহজভাবে তৈরি করেছে। Land cruiser চেসিসের উপরে একটা Electro optical sensor আর চারটা মিসাইল বসিয়েছে। Quality এর চেয়ে Quantity তে গুরুত্ব দিয়েছে। ইতিমধ্যে 20 টার বেশি ড্রোন শুটডাউন করেছে ।
এছাড়াও কিছু বিষয় আছে যেগুলো পর্যালোচনা করলে F-35 হিটের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে:
১. উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম
ইরানের কাছে Bavar-373 বা রাশিয়ার তৈরি S-300 এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। এগুলো শক্তিশালী রাডার ব্যবহার করে বিমান শনাক্ত করার চেষ্টা করে।
২. স্টেলথের সীমাবদ্ধতা
F-35 “স্টেলথ” হলেও পুরোপুরি অদৃশ্য নয়। নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির রাডার (যেমন লো-ফ্রিকোয়েন্সি রাডার) দিয়ে আংশিকভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হতে পারে—বিশেষ করে যদি বিমানটি কাছাকাছি আসে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকে।
৩. নেটওয়ার্কড ডিফেন্স
একাধিক রাডার ও সেন্সর একসাথে ব্যবহার করে (integrated air defense network) লক্ষ্য নির্ধারণ করলে স্টেলথ বিমানের অবস্থান আন্দাজ করা সহজ হয়।
৪. ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার
জ্যামিং, সিগন্যাল ট্র্যাকিং বা অন্য ইলেকট্রনিক কৌশল ব্যবহার করে বিমান শনাক্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা করা যায়।