{{ news.section.title }}
২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলে ১০৩ টি সামরিক অভিজান চালিয়েছে হিজবুল্লাহ
ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে লেবানন সীমান্ত সংঘাতের জেরে ২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলে ১০৩ টি সামরিক অভিজান চালিয়েছে লেবাননের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এই অভিযানে অন্তত দুটি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস ও সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে একজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) হিজবুল্লাহর মিডিয়া শাখা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এই বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের ৭ম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৭৭তম ব্যাটালিয়নের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাল্টাঘাতে হিজবুল্লাহ ২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে আপার গ্যালিলি অঞ্চলের মিতোলা বসতি, হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় একযোগে বিপুলসংখ্যক রকেট হামলা করে। রকেট হামলার পাশাপাশি তারা ড্রোন এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
হাইফা উপসাগরীয় এলাকা থেকে জারিয়েত এবং কারমেইল পর্যন্ত এলাকায় অন্তত ৩০টি রকেটের একটি বহর আঘাত হানে বলে হিব্রু গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে তারা। তন্মধ্যে অ্যাক্রি সিটির পূর্বে অবস্থিত এলিয়াকিম ও টিফন ঘাঁটি এবং হাইফা’র জেভ এয়ার ডিফেন্স ঘাঁটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা।
এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা কান্তারা উচ্চভূমি এবং ম্হাইসিবাত এ ইসরায়েলি সাঁজোয়া যানের ওপর আক্রমণ করে একটি মেরকাভা ট্যাংক অকেজো করার দাবী করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি আরও জানায়, নাকোরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় তারা। ইসরায়েল সেনাদের ড্রোন হামলার মাধ্যমে নাজেহাল করে তারা।
এই আক্রমণকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েলি সামরিক সূত্র। ইসরায়েলি বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ শুরুর পর থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য মতে ইরানে নারী-শিশু ও বেসামরিক নাগরিকসহ নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ জন।
আবার লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৪০ জন।
চলতি মাসের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাটিতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। একই সাথে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে আক্রমণ করেছে তারা। এর ই মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বাগে আনে ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেটা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর দাবির পর থেকে বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিলো ইরান হয়তো মুষড়ে পড়বে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একা ই লড়ে যাচ্ছে ইরান।
এছাড়া চলতি বছরের শুরু থেকেই লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সেনারা বিভিন্ন অজুহাতে সামরিক অভিজান চালিয়ে অগণিত বেসামরিক নাগরিক হত্যা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সীমান্তবর্তি এলাকাসমূহে হামলা চালায়।
হিজবুল্লাহ এই বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, তাদের এই ১০৩টি অভিযান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত প্রতিরোধের অংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে আরও জটিলতা বাড়বে ও জনজীবন চরম দূর্ভোগের পড়বে।