{{ news.section.title }}
কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের নতুন অধ্যায়ে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানার পর সেখানে আগুন ধরে যায়।
প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। রয়টার্স, কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি বলেছেন, “কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্লজ্জ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে টার্গেট করা হয়েছে একটি জ্বালানি ট্যাংকার। হামলার কারণে এতে বিশাল আগুন লেগছে।” তিনি আরও বলেছেন, “জরুরি পরিষেবার কর্মীরা বর্তমানে সেখানে রয়েছেন। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো মানুষ আহত হননি।” এই বক্তব্যের সারবস্তু কুনা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনের সঙ্গেও মিলে যায়, যেখানে বলা হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি মূলত সম্পদ ও স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল এবং প্রাথমিকভাবে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারাবাহিক কভারেজে দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরানকে ঘিরে যে বৃহত্তর সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে, তার প্রভাব এখন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও পড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস লিখেছে, ইরান পাল্টা আঘাতের অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এর আগেই একাধিক হামলার খবর এসেছে; ২৮ মার্চের আরেক হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার “উল্লেখযোগ্য” ক্ষতি হয়েছিল বলে রয়টার্স জানায়।
কুয়েতের সাম্প্রতিক এই অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ বিমানবন্দর শুধু যাত্রী চলাচলের কেন্দ্র নয়, জ্বালানি সংরক্ষণ ও লজিস্টিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হামলার ফলে তাৎক্ষণিক মানবিক ক্ষতি না হলেও, এ ধরনের আঘাত আঞ্চলিক বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক পরিবহন অবকাঠামোও যে ক্রমশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, এই ঘটনা তা আবারও স্পষ্ট করল।
কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনেও একই সময়ে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আছে: নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, বাহরাইনে “কোনো অজ্ঞাত কোম্পানি” নয়, বরং Aluminium Bahrain বা আলবা নামের বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানাই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে আলবার স্থাপনায় আঘাত লাগে এবং এতে অন্তত দু’জন সামান্য আহত হন। অর্থাৎ বাহরাইনের ঘটনার ক্ষেত্রে “কোন কোম্পানিকে টার্গেট করা হয়েছে জানা যায়নি” - এমন দাবি নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক রিপোর্টের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
সূত্রঃ রয়টার্স