ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা
ছবির ক্যাপশান, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে শহীদ হাক্কানি বন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার (১ এপ্রিল) এই হামলা চালানো হয়ছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

হামলার বিষয়ে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপ-গভর্নর আহমদ নাফিসি জানান, হামলার শিকার এই বন্দরটি মূলত সাধারণ যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
হামলার পরপরই বন্দরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।
এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি নাফিসি।
বন্দর আব্বাস শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত থমথমে। উদ্ধারকর্মীরা বিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন যাবত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামও ক্রমান্বয়য়ে বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্র গ্যালন প্রতি ৪ ডলারে পৌঁছে। ইউক্রেন যুদ্ধ সময়েও গ্যাসের দাম এতো বাড়েনি।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর এই হামলাকে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে
ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে তারা এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
আজকের যাত্রী ও বাণিজ্যিক বন্দরে আঘাত হানার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ইরান।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মন্তব্য করেছেন যে, শহীদ হাক্কানি বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হামলার মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট।ইরান এর পাল্টা হামলা করলে ও হরমুজ প্রণালি আরও দীর্ঘদিন বন্ধ রাখলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শহীদ হাক্কানি বন্দর একটি অসামরিক স্থাপনা, এখানে  হামলার ঘটনা এই যুদ্ধের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। 
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, ‘উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই সংঘাত দ্রুত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।‘

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানেম বিভিন্ন বেসামরিক অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৪০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ না করলেও মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান বলছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ