{{ news.section.title }}
ইরান যুদ্ধের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ বন্ধ করল প্ল্যানেট ল্যাবস
মার্কিন স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতঘেরা এলাকার ছবি অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধের পর তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রাহকদের পাঠানো এক ইমেইলে বলা হয়েছে, সংঘাত-সংশ্লিষ্ট এলাকার ছবির ওপর “অনির্দিষ্টকালীন স্থগিতাদেশ” কার্যকর করা হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শুধু ভবিষ্যতের ছবি নয়, ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে তোলা ছবিও সীমিত করা হবে। এর আগে কোম্পানিটি প্রথমে ৯৬ ঘণ্টা এবং পরে ১৪ দিনের বিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকার ছবি প্রকাশের নীতি নেয়। তখন তাদের যুক্তি ছিল, যাতে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী এই ছবি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলায় সুবিধা না পায়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, এখন থেকে তারা “ম্যানেজড ডিস্ট্রিবিউশন” বা নিয়ন্ত্রিত বিতরণ পদ্ধতিতে যাবে। অর্থাৎ, সব ছবি উন্মুক্তভাবে ছাড়া হবে না। বরং জরুরি, মিশন-গুরুত্বপূর্ণ বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রয়োজন থাকলে কেসভিত্তিক সিদ্ধান্তে ছবি সরবরাহ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতি অসাধারণ এবং সব পক্ষের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তারা এই নীতি অনুসরণ করছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এরপর ইরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কোম্পানিটি ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সীমাবদ্ধতা বহাল থাকতে পারে।
স্যাটেলাইট ছবি আধুনিক যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লক্ষ্য শনাক্তকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি, সামরিক চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং যোগাযোগ সমন্বয়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিক, গবেষক এবং বিশ্লেষকরাও দুর্গম বা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবির ওপর নির্ভর করে থাকেন। ফলে এই সীমাবদ্ধতা যুদ্ধক্ষেত্রের স্বচ্ছতা এবং তথ্যপ্রবাহ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।