{{ news.section.title }}
লেবাননে ইসরাইলি হামলা, ভেস্তে যেতে পারে যুদ্ধবিরতি
ইরানে ৩৯ দিনের সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ থামার প্রত্যাশা তৈরি হলেও লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলা এই নাজুক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বৈরুতজুড়ে বড় ধরনের হামলার পর তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে লেবানন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এমন হামলা চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় সম্মত হওয়ার পর নিজেদের অবস্থানকে সফল বলে দাবি করেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুতই সেই সমঝোতার দুর্বলতা সামনে আসে।
ইসরাইল জানিয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, লেবানন ইস্যু চুক্তির অংশ নয়।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতির ভিত্তিই ইতোমধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখা, ইরানের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অস্বীকার-এই তিনটি বিষয়কে বড় লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
লেবাননের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্থানীয়দের বর্ণনায়, রাজধানী বৈরুতজুড়ে হঠাৎ হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ইসরাইলের বিমান ও স্থল হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে হিজবুল্লাহও।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা ইরানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, এখনো কিছু সামরিক লক্ষ্য অর্জন বাকি রয়েছে।
পেন্টাগনও জানিয়েছে, পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হলে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।
এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান বিকল্প নৌপথের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়, ফলে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।