ইরান যুদ্ধ ৪১তম দিন: লেবাননে শোক, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

ইরান যুদ্ধ ৪১তম দিন: লেবাননে শোক, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন টানাপোড়েন
ছবির ক্যাপশান, ইরান যুদ্ধ ৪১তম দিন: লেবাননে শোক, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

ইরান যুদ্ধের ৪১তম দিনে লেবাননে ভয়াবহ হামলার পর দেশজুড়ে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একদিনেই ইসরাইলের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, ইসরাইলের হামলা বন্ধ করতে দেশটির সব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননেও সংঘাত বন্ধ থাকার কথা ছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, চুক্তির শর্ত স্পষ্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি অথবা সংঘাতের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।

ইরানে কী ঘটছে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা যুদ্ধ শেষ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তার মতে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকা, ইরানের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশ এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের অধিকার অস্বীকার করা এই লঙ্ঘনের অংশ।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান যে দশ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত কাঠামোর সঙ্গে পুরোপুরি মিল নয়।

কূটনৈতিক পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তার সঙ্গে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং অন্যান্য কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।

লেবাননে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, এত ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ভয়াবহ এবং যুদ্ধবিরতির ঠিক পরেই এমন ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইরাকের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ওমান ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে ন্যাটো জোটের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধে সরাসরি সামরিক সহায়তা না দিয়ে জোটটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যে কোনো সময় নতুন করে সংঘাত তীব্র হতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ