হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচলে কড়া সতর্কতা

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচলে কড়া সতর্কতা
ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচলে কড়া সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে বিদেশি সামরিক জাহাজকে ‘কঠোর ও নির্ণায়ক জবাব’ দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির-এর এক প্রতিবেদনে শনিবার (১১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।

‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবি তেহরানের

আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ‘পূর্ণ ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শুধুমাত্র বেসামরিক জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে-এমন দাবিও সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা হয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর তাদের প্রতিপক্ষ ও মিত্রদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল এবং ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

আরো পড়ুন : চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

নতুন পর্যায়ে প্রণালি ব্যবস্থাপনা

ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি-এর নির্দেশনায় হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এখন ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সামরিক অবস্থান নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা-যেখানে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

একই সময়ে ব্যর্থ কূটনীতি

এদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে কোনো চুক্তি ছাড়াই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

সামনে অনিশ্চয়তা

সব মিলিয়ে, একদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়া সামরিক অবস্থান, অন্যদিকে ব্যর্থ কূটনৈতিক আলোচনা-এই দুই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।


সম্পর্কিত নিউজ