শপথ নিলেন ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি

শপথ নিলেন ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি
ছবির ক্যাপশান, নতুন প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি | ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি রাজনীতিক নিজার আমেদি। শনিবার ইরাকের পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি ২২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত আমেদি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদেরকে পরাজিত করেন, যিনি পেয়েছেন ১৫ ভোট।

শপথের পর ‘ইরাক ফার্স্ট’ বার্তা

শপথ গ্রহণের পর পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে নিজার আমেদি ‘ইরাক ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশাসনের সব শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চান। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই বার্তা মূলত দীর্ঘ অচলাবস্থার পর নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির অংশ।

কে এই নিজার আমেদি

৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা ও কুর্দি রাজনীতিক। তিনি দুইজন সাবেক ইরাকি প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইরাকের পরিবেশমন্ত্রী ছিলেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি দোহুক প্রদেশের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়।

কেন এত দেরি হলো নির্বাচন

ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, বিশেষ করে সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে এই ভোট কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন নতুন সরকার গঠন না হওয়ায় দেশটি কার্যত দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। নিজার আমেদির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই অচলাবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শেষ হলো।

যুদ্ধ-পরবর্তী অস্থিরতার প্রেক্ষাপট

এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইরাক এখনও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। পাল্টা হামলায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে ওঠে। আমেদি তার ভাষণে যুদ্ধের সময় ইরাকের ওপর চালানো হামলার নিন্দা জানান এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এখন নজর প্রধানমন্ত্রীর পদে

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন দৃষ্টি যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিকে, যা ইরাকের রাজনীতিতে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটির প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা-বণ্টন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট সাধারণত কুর্দি, প্রধানমন্ত্রী শিয়া মুসলিম এবং পার্লামেন্টের স্পিকার সুন্নি হন। ইতোমধ্যে শিয়া নেতৃত্বাধীন ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিকে এই পদের জন্য মনোনীত করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এখন নিজার আমেদিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে।

সামনে যা হতে পারে

নিজার আমেদির নির্বাচন ইরাকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সরকার গঠন, জোটের ভারসাম্য, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-সবকিছু মিলিয়ে নতুন প্রেসিডেন্টকে শুরুতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তবু বিশ্লেষকদের মতে, তার নির্বাচন অন্তত ইরাকের ক্ষমতার কাঠামোকে আবার সচল করার সুযোগ তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ