সব ধরনের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকৃতি ইরানের - কোন সমঝোতা হয়নি

সব ধরনের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকৃতি ইরানের - কোন সমঝোতা হয়নি
ছবির ক্যাপশান, সব ধরনের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকৃতি ইরানের - কোন সমঝোতা হয়নি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র মতপার্থক্যই এই ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত টানা প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কঠোর শর্ত তোলে। বিশেষ করে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে সীমিত বা কার্যত বন্ধ করার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়।

তবে তেহরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। ইরানের অবস্থান হলো, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার রাখে এবং এই অধিকার থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সক্ষমতা অর্জন না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত ও কঠোর শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে, যা সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আস্থার সংকট বড় বাধা

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরান মনে করে, অতীতেও আলোচনা চলাকালীন সময়েই হামলা চালানো হয়েছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা দুর্বল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সন্দিহান এবং কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

আরও জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

এই আলোচনায় শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক উপস্থিতির মতো বিষয়গুলোও বড় বিরোধের জায়গা হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতা ছাড়া স্থায়ী কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

ভবিষ্যৎ কী

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান এবং আস্থার সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ