বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
ছবির ক্যাপশান, বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সোমবার লেনদেন শুরুর দিকেই তেলের বাজারে এই চাপ স্পষ্ট হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগামী ও বন্দর থেকে বের হওয়া সব সামুদ্রিক জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর হবে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানবহির্ভূত গন্তব্যে যাওয়া-আসার জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হবে না।

বাজারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ২৪ সেন্টে ওঠে। একই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলার ২৯ সেন্টে পৌঁছে যায়। রয়টার্স, এপি এবং অ্যাক্সিওস-তিনটি সূত্রেই এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য মিলেছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামে এই উল্লম্ফনের মূল কারণ শুধু সরবরাহ-ঝুঁকি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে-এই আশঙ্কাও। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বা জাহাজ চলাচলে বাধা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

যুদ্ধ শুরুর আগে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেলের দাম ছিল তুলনামূলক অনেক নিচে। পরে সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দামে বড় উত্থান-পতন দেখা যায়। শুক্রবার পাকিস্তানে আলোচনার খবরে জুন ডেলিভারির তেলের দর কিছুটা নেমে এলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ঘোষণার পর সেই স্বস্তি দ্রুত উধাও হয়ে যায়। এখন বাজার আবারও ধরে নিচ্ছে, দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ ফেরার সম্ভাবনা কম।

একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার আগেই অনেক তেলবাহী জাহাজ হরমুজমুখী রুট এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। কিছু জাহাজ দিক পরিবর্তন করে উপসাগরের বাইরে নোঙর করেছে, আবার কিছু জাহাজ শেষ মুহূর্তে এলাকা ত্যাগের চেষ্টা করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানের বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। দাম এখন ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় সামনে জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ