{{ news.section.title }}
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে সমর্থন দেবে না যুক্তরাজ্য - স্টারমার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধে যুক্ত হবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি মিত্র দেশও সমালোচনা করেছে।
সোমবার বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, “আমরা এই অবরোধকে সমর্থন করছি না,” এবং যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে জড়ানো হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
স্টারমারের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা উপসাগরীয় অঞ্চলকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে প্রণালীটি পুরোপুরি চালু করা, এবং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা সেই দিকেই কাজ করছি-এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাব।”
লন্ডন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, স্টারমার এক ধরনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখছেন-একদিকে তিনি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার অবস্থান নিচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের পদক্ষেপের সরাসরি সমালোচনা থেকেও বিরত থাকছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। ইরান কেবলমাত্র চীনের মতো মিত্র দেশগুলোর কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
স্টারমারের এই মন্তব্যের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা জিএমটি সময় ১৪:০০ থেকে ইরানের সব বন্দরগামী ও বন্দর থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করবে। তবে কীভাবে এই অবরোধ বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংলগ্ন সব বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী পারাপারে বাধা দেওয়া হবে না।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার লক্ষ্য হলো প্রণালীটিকে মাইনমুক্ত করে সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করা, এবং ইরানকে এই পথ নিয়ন্ত্রণ করে লাভবান হতে না দেওয়া।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য খুব শিগগিরই একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে, যার উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো জরুরি।
প্যারিস ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজের এক গবেষক নিকোল গ্রাজেউস্কি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ কোনো সাধারণ চাপ প্রয়োগ নয়; বরং এটি কার্যত যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মতো একটি পদক্ষেপ।
অন্যদিকে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রব্লেস এই পরিকল্পনাকে “অযৌক্তিক” বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
ন্যাটো মিত্র তুরস্কও দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করে দ্রুত প্রণালী চালু করা উচিত।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ও ইরানি তেলের বড় আমদানিকারক চীনও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সবার স্বার্থে জরুরি।
সূত্রঃ আলজাজিরা