চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, বললেন আরাগচি

চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, বললেন আরাগচি
ছবির ক্যাপশান, চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, বললেন আরাগচি

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলেও, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

সোমবার আল জাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানীতে হওয়া ওই দীর্ঘ বৈঠকে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার পথ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মতভেদ রয়ে যায়। আলোচনাটি ছিল ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের একটি পর্ব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, গত ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দেশ চুক্তির ‘একেবারে কাছাকাছি’ অবস্থানে ছিল। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে জটিলতা তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শেষ সময়ে ‘অতিরিক্ত দাবি, বারবার শর্ত পরিবর্তন এবং অচলাবস্থা’ সৃষ্টি করা হয়। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়াই মূল অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরাগচি তার পোস্টে আরও বলেন, ইতিহাস থেকেত কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সদিচ্ছা সদিচ্ছাই জন্ম দেয়, আর শত্রুতা শত্রুতাই সৃষ্টি করে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত আলোচনার ব্যর্থতার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন। এপির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার পক্ষে ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইছিল।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। রোববার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ত্যাগ করে এবং ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্ভব। তিনি ইরানের আলোচক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমি ইরানের প্রতিনিধিদলের সব সদস্যকে অভিনন্দন জানাই। আল্লাহ আপনাদের আরও শক্তি দিন। আলোচনায় সমঝোতা না হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে দরজা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি-এমন বার্তাই এতে উঠে এসেছে।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলে। এপি ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো লিখিত সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে আবারও সংলাপের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই বৈঠক ব্যর্থ হলেও তা সম্পূর্ণ নিষ্ফল ছিল না। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশ অন্তত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখানে একটি কাঠামোগত সমঝোতার ভিত্তি দাঁড়াতে পারত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই অচলাবস্থা কি নতুন উত্তেজনার দিকে যাবে, নাকি উভয় পক্ষ আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরবে। আপাতত সেটিই নজর রাখার সবচেয়ে বড় বিষয়।

সূত্রঃ আলজাজিরা


সম্পর্কিত নিউজ